সরকারি গাড়ির অপব্যবহার: অনিয়ম বন্ধে কঠোর হওয়া দরকার

  সম্পাদকীয় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি গাড়ি
সরকারি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ বিষয়ক অনিয়মের কারণে প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়ে থাকে।

সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুদমুক্ত ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনার পরও অনেক কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছেন সরকারি গাড়ি। সরকারি গাড়ি অপব্যবহারের এই উৎসব কবে বন্ধ হবে, এটা এক বড় প্রশ্ন।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তাকে সুদমুক্ত সুবিধায় ৩০ লাখ টাকা করে গাড়ি কেনার বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে যানবাহন খাতে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। কারণ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা আগের মতোই মন্ত্রণালয়, দফতর বা সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ প্রকল্পের দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। কর্মকর্তারা ঋণ সুবিধায় যেসব গাড়ি কিনেছেন, তা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণে।

তাছাড়া গাড়ির চালক ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভাতাও দেয়া হয়। এত সুবিধা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা হয়, যেসব কর্মকর্তা ঋণ সুবিধা নিয়ে গাড়ি ক্রয় করেছেন তারা সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতার পরিচয় দেবেন।

এমন একটি সুযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা উন্নত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিচয় দেবেন, এটাও প্রত্যাশিত।

যেসব কর্মকর্তা অফিসে আসা-যাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের মাইক্রোবাস ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঋণ সুবিধায় গাড়ি কিনেছেন। অথচ তাদের কেউ কেউ ঋণ সুবিধায় কেনা প্রাইভেট কার অফিসে যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করছেন না।

সেটি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত কাজে। সরকারি চালক দিয়ে মাঝেমধ্যে ঋণের টাকায় কেনা ব্যক্তিগত গাড়ি সচল রাখার নজিরও রয়েছে। কোনো কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও জরুরি প্রয়োজনে অফিসে অতিরিক্ত সময় কাজ করেন।

এ জন্য অফিস শেষে ঋণ সুবিধায় ক্রয় করা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। এ ধরনের অজুহাতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে অফিসের গাড়ি ব্যবহার কতটা যৌক্তিক তাও ভেবে দেখা দরকার।

কর্মকর্তারা সব ক্ষেত্রে নৈতিকতার পরিচয় না দিলে অনাকাক্সিক্ষত অনেক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনার পর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের মতো অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকলে সাধারণ কর্মচারীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এসব অনিয়ম বন্ধে সরকার কঠোর না হলে সরকারি অর্থের অপচয় বাড়বে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×