কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য হুমকি

  আজহার মাহমুদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোর গ্যাং
কিশোর গ্যাং। প্রতীকী ছবি

‘কিশোর গ্যাং’ কথাটি আমাদের সমাজে খুব বেশিদিনের প্রচলিত নয়। গ্যাং বলতে আমরা জানি একাধিক জনের একটি দল, যা বর্তমানে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে। কিশোর গ্যাং অনেকটা সে রকম।

এসব গ্যাং তৈরি হয় বিপথে যাওয়া কিশোরদের মাধ্যমে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কিশোর নিজেদের কার্যকলাপ শেয়ার করে। এই কিশোরদের মধ্যে এ সময় হিরোইজম তৈরি হয়। প্রথমদিকে অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতে মাদকও উঠে আসে।

এলাকার আধিপত্য নিয়েও এক ধরনের অহমিকা কাজ করে তাদের ভেতর। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের এলাকায় নিজেরাই রাজা। রাতে মোটরসাইকেল রেস, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, ছিনতাই বা চাঁদাবাজি করাও এদের অন্যতম কাজ।

এরপর একসময় মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে এসব কিশোর। এক এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে অন্য এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। দ্বন্দ্ব থেকে প্রায়ই হুমকি-ধামকি ও শারীরিক আঘাতের মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

প্রকাশ্যে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই একদল আরেক দলের ওপর হামলা চালায়। এতে খুন-খারাবির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। তাদের কাছে সম্মানিত ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কোনো মূল্য নেই। বয়োজ্যেষ্ঠদের কোনো তোয়াক্কাই করে না এসব কিশোর গ্যাং।

যেখানে এ বয়সের কিশোরদের চোখে থাকার কথা দেশকে ভালোবাসার স্বপ্ন, নিজেকে যোগ্যতর করে গড়ে তোলার স্বপ্ন, সেখানে এ কিশোরদের চোখে জ্বলে হিংসার আগুন। তাদের হাতে থাকে কলমের পরিবর্তে চাপাতি, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র। তাদের মুখে মাদকের নেশা।

তাদের কাজ ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ, এমনকি হত্যাও। আশঙ্কার বিষয় হল, দেশে এ ধরনের চক্র ক্রমেই বাড়ছে। আমাদের মাথাব্যথার কারণ এখানেই। এসব কিশোর সমাজ নির্মাণের কারিগর হতে পারত।

অথচ তাদের আচরণ বা চলন দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে, আমাদের এ কিশোর প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। যদিও কয়েকটি গ্রুপ বা কয়েকজন কিশোর-কিশোরী নিয়ে সামগ্রিক বিচার করা ঠিক নয়, তবে এদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে যে একসময় আমাদের বড় সংকটে পড়তে হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

এদের সংশোধনের উপায় নিয়ে এখন নানা আলোচনা চলছে। যে ভুল পথে এরা এগিয়ে চলেছে সেটা যে অন্ধকার, তা তাদের মস্তিষ্কে ঢোকাতে হবে। এ পথের না আছে কোনো শুভ সমাপ্তি, রয়েছে পদে পদে অনিশ্চয়তা।

অথচ তাদের দেখলে মনে হয় এসব করে তারা অপার শান্তি পায়। তাদের এই বোধ কেন হল? কোন্ নিঃসঙ্গতার জালে পড়ে এ পথে পা বাড়াচ্ছে কিশোররা সেটাও ভাবার বিষয়। শিশু-কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা সমাজের জন্য ভয়ংকর। তাদের এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ তাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব।

বিপথগামী এ কিশোরদের সংশোধন করা জরুরি। কেবল শাস্তি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, খেলাধুলার অভাব, পারিবারিক মনিটরিংয়ের অভাবে ছেলেরা বিপথে যায়। তাই এ নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে।

পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা চাইলে নিজেদের সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখতে পারেন। এজন্য অবশ্যই কিশোর বয়সের সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে মিশতে হবে। বুঝতে হবে সন্তান কী চায়। অবশ্যই সন্তানের সব অন্যায্য চাহিদা পূরণ নয়, বরং যেটা দরকারি সেটাই পূরণের চেষ্টা করতে হবে।

আজহার মাহমুদ : প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×