হটলাইনে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ
jugantor
হটলাইনে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ
ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হোক

  সম্পাদকীয়  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ জানাতে হটলাইন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আগামী মাসেই চালু হবে এ হটলাইন নম্বর। এর মাধ্যমে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীরা তাদের সমস্যার কথা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে জানাতে পারবেন। অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি ভালো সন্দেহ নেই। যথাযথ বাস্তবায়ন হলে এ থেকে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন অবশ্যই। তবে প্রক্রিয়াটি যেন সহজ হয়, ফোনে সংযোগ পেতে ভুক্তভোগীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়- এটি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে ভূমি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। যে কোনো বিরোধের চেয়ে জমিজমা নিয়ে বিরোধ বেশি। এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও তাই অসংখ্য। আদালতে যত মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তার বেশিরভাগই জমি সক্রান্ত।

বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর রায় না পেয়ে হয়রানির শিকার হন। বস্তুত দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি জমি গ্রাস, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ, জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখল- এসব ঘটনা ঘটে চলেছে অহরহ। ভূমি নিয়ে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাকে অরাজকতা বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। জমি নিয়ে মানুষকে নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করা, নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেয়া, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নামজারি না করা, ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে নয়-ছয় করা ইত্যাদি অতি সাধারণ ঘটনা। জানা যায়, ভূমির দলিল নিবন্ধনে ১ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা, দলিলপ্রতি সমিতিকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন করতে হয়।

পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়েও দেখা দেয় নানা জটিলতা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অথবা সঞ্চিত কষ্টার্জিত টাকায় কেনা কারও জমি যখন অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন তার কষ্টের সীমা থাকে না। তাই সরকারের উচিত এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া।

সরকার জমি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ-ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নানা কারণে এ উদ্যোগও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে জমি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ-হয়রানির অবসান হয়নি।

সরকারের উচিত জমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে জনগণের ভোগান্তি নিরসনের পদক্ষেপ নেয়া। সোমবারের উল্লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ভূমি খাত পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন হয়ে গেলে মামলার জট অর্ধেক কমে যাবে। এ প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে সহমত পোষণ করে আমরা বলতে চাই, ভূমি সংক্রান্ত সব মন্ত্রণালয় যাতে একইসঙ্গে ডিজিটালাইজেশন করা হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

পুরো সিস্টেমটা ডিজিটালাইজেশন হয়ে গেলে ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বন্ধ হবে ভূমি নিয়ে দুর্নীতি ও হয়রানি। তাই আমরা মনে করি, এ কাজটি যত দ্রুত সম্পন্ন হয় ততই মঙ্গল।

হটলাইনে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ

ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হোক
 সম্পাদকীয় 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ জানাতে হটলাইন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আগামী মাসেই চালু হবে এ হটলাইন নম্বর। এর মাধ্যমে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীরা তাদের সমস্যার কথা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে জানাতে পারবেন। অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি ভালো সন্দেহ নেই। যথাযথ বাস্তবায়ন হলে এ থেকে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন অবশ্যই। তবে প্রক্রিয়াটি যেন সহজ হয়, ফোনে সংযোগ পেতে ভুক্তভোগীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়- এটি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে ভূমি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। যে কোনো বিরোধের চেয়ে জমিজমা নিয়ে বিরোধ বেশি। এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও তাই অসংখ্য। আদালতে যত মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তার বেশিরভাগই জমি সক্রান্ত।

বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর রায় না পেয়ে হয়রানির শিকার হন। বস্তুত দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি জমি গ্রাস, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ, জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখল- এসব ঘটনা ঘটে চলেছে অহরহ। ভূমি নিয়ে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাকে অরাজকতা বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। জমি নিয়ে মানুষকে নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করা, নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেয়া, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নামজারি না করা, ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে নয়-ছয় করা ইত্যাদি অতি সাধারণ ঘটনা। জানা যায়, ভূমির দলিল নিবন্ধনে ১ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা, দলিলপ্রতি সমিতিকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন করতে হয়।

পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়েও দেখা দেয় নানা জটিলতা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অথবা সঞ্চিত কষ্টার্জিত টাকায় কেনা কারও জমি যখন অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন তার কষ্টের সীমা থাকে না। তাই সরকারের উচিত এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া।

সরকার জমি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ-ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নানা কারণে এ উদ্যোগও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে জমি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ-হয়রানির অবসান হয়নি।

সরকারের উচিত জমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে জনগণের ভোগান্তি নিরসনের পদক্ষেপ নেয়া। সোমবারের উল্লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ভূমি খাত পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন হয়ে গেলে মামলার জট অর্ধেক কমে যাবে। এ প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে সহমত পোষণ করে আমরা বলতে চাই, ভূমি সংক্রান্ত সব মন্ত্রণালয় যাতে একইসঙ্গে ডিজিটালাইজেশন করা হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

পুরো সিস্টেমটা ডিজিটালাইজেশন হয়ে গেলে ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বন্ধ হবে ভূমি নিয়ে দুর্নীতি ও হয়রানি। তাই আমরা মনে করি, এ কাজটি যত দ্রুত সম্পন্ন হয় ততই মঙ্গল।