জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে
jugantor
জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে

  জয়নুল আবেদীন স্বপন  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যেরা বনে সুন্দর। প্রাকৃতিক নিয়মে বনের সৃষ্টি, তার সৌন্দর্য সেখানেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ভাওয়ালের বন একদিন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল।

লাল মাটির উঁচু ভূমির বনে গজারি ছাড়াও ছিল কড়ই, বট, অশ্বত্থ, পলাশ, শিমুল, সোনালু, জিগা, গাদিলা, নাগেশ্বর, বহেরা, হরীতকী, জারুল, তিতিজাম, বনআমড়া, আনই, অরবড়ই, চিনাডলই, বঙ্কই, কুটিশলসহ হাজারও প্রজাতির গাছ।

প্রাণীর মধ্যে ইতিমধ্যে বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, মুখপোড়া হনুমান, বনরুই, বনমোরগ, সজারু, খরগোশ এবং পাখির মধ্যে ময়ূর, শকুনসহ অনেক পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন বানর, শেয়াল, বনবিড়াল, গুইসাপ, কাঠবিড়ালি, বেজি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ছাড়া অন্য কিছু তেমন চোখে পড়ে না। খাদ্য সংকটের কারণে বানর এখন লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বাড়ি ও দোকান থেকে সংগ্রহ করছে খাদ্য।

শেয়াল ও বনবিড়ালগুলো বাড়ি থেকে হাঁস, মুরগি, কবুতর ধরে সাবাড় করছে। খামারের মাছও খাচ্ছে ওরা। বনের কাঠবিড়ালিরা গ্রামে ঢুকে কৃষকের সবজি, কাঁঠাল, আম, পেঁপে, কচি ডাবসহ অনেক ফসল নষ্ট করছে।

নির্বিচারে বন কাটার কারণে ভাওয়াল গড়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উন্নয়ন ঘটানোর নামে বন ধ্বংসের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে। জবরদখল করে বাড়ানো হচ্ছে কৃষি জমি। শত শত বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে বনের জমিতে। দিন দিন ছোট হয়ে আসছে ভাওয়াল বনের আয়তন।

বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য আইন থাকলেও আগে আইনের তেমন প্রয়োগ ছিল না। আগে আদিবাসীরা ভাওয়াল বনে জাল পেতে লাজুক ও নিরীহ প্রাণী খরগোশ শিকার করত। সরকি-বল্লম দিয়ে অবাধে শিকার করত বন্য শূকর। তখন কেউ বন্যপ্রাণী রক্ষার কথা চিন্তাও করেনি। মানুষ বন থেকে বনমোরগ ও ময়ূর অবাধে ধরে নিয়ে যেত। মানবসৃষ্ট কারণেই ভাওয়ালের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে বেশি।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা না পাওয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে অনেক জীবের। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির বিভিন্ন উৎস নষ্ট হওয়ায় জীবজন্তু বন থেকে পালাচ্ছে। বনের আলু অনেক প্রাণীর খাদ্য। এ আলু তোলায় কোনো নিষেধ না থাকায় দলে দলে মানুষ আলু তুলে নিচ্ছে। এতে অন্য গাছের চারাও উঠে যাচ্ছে।

আগে ভাওয়াল বনে গজারি ছাড়া অন্য গাছ কাটায় তেমন বাধা ছিল না। গজারি ছাড়া অন্য গাছকে বলা হতো আকাঠা। এই আকাঠার নাম নিয়ে অন্য কাঠ, ঔষধি ও ফলজ গাছগুলো অবাধে কাটা হতো। বন বিভাগ দেখেও তেমন গা করত না।

তারা বোধহয় মনে করত গজারিই বনের সম্পদ। এ গাছ রক্ষা করতে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ত। বন্যপ্রাণীরা যে ফলমূল খেয়ে বাঁচবে এ ধারণা নিয়ে কাজ করা উচিত ছিল আগে থেকেই। প্রতি বছর পাতা ঝরার দিনে চৈত্র মাসে কে বা কারা বনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে লতা, গুল্ম, ঔষধি, বনজ ফল ও বুনো ফুলসহ হাজারও প্রজাতির গাছের চারা ধ্বংস হয়। অনেক প্রাণীর বাসস্থান নষ্ট হয়।

বনে পরিবেশ দূষণ করছে কলকারখানার ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি। বিষাক্ত পানি পান করে বনের অনেক জীবের মৃত্যুও ঘটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ধ্বংস হওয়া বনকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে।

জয়নুল আবেদীন স্বপন : শিক্ষক ও শিশু সংগঠক, শ্রীপুর, গাজীপুর

জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে

 জয়নুল আবেদীন স্বপন 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যেরা বনে সুন্দর। প্রাকৃতিক নিয়মে বনের সৃষ্টি, তার সৌন্দর্য সেখানেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ভাওয়ালের বন একদিন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল।

লাল মাটির উঁচু ভূমির বনে গজারি ছাড়াও ছিল কড়ই, বট, অশ্বত্থ, পলাশ, শিমুল, সোনালু, জিগা, গাদিলা, নাগেশ্বর, বহেরা, হরীতকী, জারুল, তিতিজাম, বনআমড়া, আনই, অরবড়ই, চিনাডলই, বঙ্কই, কুটিশলসহ হাজারও প্রজাতির গাছ।

প্রাণীর মধ্যে ইতিমধ্যে বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, মুখপোড়া হনুমান, বনরুই, বনমোরগ, সজারু, খরগোশ এবং পাখির মধ্যে ময়ূর, শকুনসহ অনেক পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন বানর, শেয়াল, বনবিড়াল, গুইসাপ, কাঠবিড়ালি, বেজি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ছাড়া অন্য কিছু তেমন চোখে পড়ে না। খাদ্য সংকটের কারণে বানর এখন লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বাড়ি ও দোকান থেকে সংগ্রহ করছে খাদ্য।

শেয়াল ও বনবিড়ালগুলো বাড়ি থেকে হাঁস, মুরগি, কবুতর ধরে সাবাড় করছে। খামারের মাছও খাচ্ছে ওরা। বনের কাঠবিড়ালিরা গ্রামে ঢুকে কৃষকের সবজি, কাঁঠাল, আম, পেঁপে, কচি ডাবসহ অনেক ফসল নষ্ট করছে।

নির্বিচারে বন কাটার কারণে ভাওয়াল গড়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উন্নয়ন ঘটানোর নামে বন ধ্বংসের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে। জবরদখল করে বাড়ানো হচ্ছে কৃষি জমি। শত শত বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে বনের জমিতে। দিন দিন ছোট হয়ে আসছে ভাওয়াল বনের আয়তন।

বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য আইন থাকলেও আগে আইনের তেমন প্রয়োগ ছিল না। আগে আদিবাসীরা ভাওয়াল বনে জাল পেতে লাজুক ও নিরীহ প্রাণী খরগোশ শিকার করত। সরকি-বল্লম দিয়ে অবাধে শিকার করত বন্য শূকর। তখন কেউ বন্যপ্রাণী রক্ষার কথা চিন্তাও করেনি। মানুষ বন থেকে বনমোরগ ও ময়ূর অবাধে ধরে নিয়ে যেত। মানবসৃষ্ট কারণেই ভাওয়ালের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে বেশি।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা না পাওয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে অনেক জীবের। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির বিভিন্ন উৎস নষ্ট হওয়ায় জীবজন্তু বন থেকে পালাচ্ছে। বনের আলু অনেক প্রাণীর খাদ্য। এ আলু তোলায় কোনো নিষেধ না থাকায় দলে দলে মানুষ আলু তুলে নিচ্ছে। এতে অন্য গাছের চারাও উঠে যাচ্ছে।

আগে ভাওয়াল বনে গজারি ছাড়া অন্য গাছ কাটায় তেমন বাধা ছিল না। গজারি ছাড়া অন্য গাছকে বলা হতো আকাঠা। এই আকাঠার নাম নিয়ে অন্য কাঠ, ঔষধি ও ফলজ গাছগুলো অবাধে কাটা হতো। বন বিভাগ দেখেও তেমন গা করত না।

তারা বোধহয় মনে করত গজারিই বনের সম্পদ। এ গাছ রক্ষা করতে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ত। বন্যপ্রাণীরা যে ফলমূল খেয়ে বাঁচবে এ ধারণা নিয়ে কাজ করা উচিত ছিল আগে থেকেই। প্রতি বছর পাতা ঝরার দিনে চৈত্র মাসে কে বা কারা বনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে লতা, গুল্ম, ঔষধি, বনজ ফল ও বুনো ফুলসহ হাজারও প্রজাতির গাছের চারা ধ্বংস হয়। অনেক প্রাণীর বাসস্থান নষ্ট হয়।

বনে পরিবেশ দূষণ করছে কলকারখানার ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি। বিষাক্ত পানি পান করে বনের অনেক জীবের মৃত্যুও ঘটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ধ্বংস হওয়া বনকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে।

জয়নুল আবেদীন স্বপন : শিক্ষক ও শিশু সংগঠক, শ্রীপুর, গাজীপুর