সরকারি কেনাকাটায় মূল্য নির্ধারণ: দুর্নীতি রোধে কঠোরতাই কাম্য
jugantor
সরকারি কেনাকাটায় মূল্য নির্ধারণ: দুর্নীতি রোধে কঠোরতাই কাম্য

  সম্পাদকীয়  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় পণ্য অথবা সেবার দাম নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বালিশ’ ও ‘পর্দা’ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য নির্ধারণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এ নির্দেশনা এলো।

উল্লেখ্য, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সাম্প্রতিক বৈঠকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বস্তুত এরপরই এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একইসঙ্গে সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। দেখা গেছে, বাস্তবায়নের সক্ষমতা না থাকলেও প্রতি বছর মাত্রাতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে শুধু দাতা সংস্থাগুলো হতাশ বা অসন্তোষ প্রকাশ করে না, দেশও হয় ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে গৃহীত প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হল অনিয়ম ও দুর্নীতি, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির জন্ম দেয়।

অবশ্য এ কথাও সত্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলিল প্রণয়ন, অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, পরিবেশসংক্রান্ত অনুমোদন এবং কারিগরি জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও স্বচ্ছতার অভাবও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ।

কাজেই সরকারের গৃহীত প্রতিটি প্রকল্প শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্পকেন্দ্রিক অন্যান্য সমস্যারও দ্রুত সমাধান করতে হবে। এজন্য প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।

ভুলে গেলে চলবে না, প্রকল্পে বারবার সংশোধনী আনা হলে অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণের মাধ্যমে অর্থ পকেটস্থ করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে দুর্নীতির প্রসার ঘটে। দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের গুণগত মান ধরে রাখতে না পারায় দেশবাসী এর তেমন সুফল পায় না।

কাজেই প্রকল্প কতটা সুন্দর তা দেখার আগে দেখতে হবে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে কিনা এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, কেনাকাটায় দুর্নীতি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে লুটপাট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি অনুমোদিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রকল্পের টাকা সঠিক খাতে ব্যবহার না করে ভুয়া, অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাৎ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটেরা ও সুবিধাভোগীদের পকেটে চলে যাওয়া মোটেই কাম্য নয়।

অপ্রিয় হলেও সত্য, অনেক প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের কথা মাথায় রেখেই। কে কত বেশি কমিশন দেবে, তার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বণ্টন করা হয়। সরকার শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সরকারি কেনাকাটায় মূল্য নির্ধারণ: দুর্নীতি রোধে কঠোরতাই কাম্য

 সম্পাদকীয় 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় পণ্য অথবা সেবার দাম নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বালিশ’ ও ‘পর্দা’ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য নির্ধারণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এ নির্দেশনা এলো।

উল্লেখ্য, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সাম্প্রতিক বৈঠকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বস্তুত এরপরই এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একইসঙ্গে সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। দেখা গেছে, বাস্তবায়নের সক্ষমতা না থাকলেও প্রতি বছর মাত্রাতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে শুধু দাতা সংস্থাগুলো হতাশ বা অসন্তোষ প্রকাশ করে না, দেশও হয় ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে গৃহীত প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হল অনিয়ম ও দুর্নীতি, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির জন্ম দেয়।

অবশ্য এ কথাও সত্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলিল প্রণয়ন, অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, পরিবেশসংক্রান্ত অনুমোদন এবং কারিগরি জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও স্বচ্ছতার অভাবও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ।

কাজেই সরকারের গৃহীত প্রতিটি প্রকল্প শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্পকেন্দ্রিক অন্যান্য সমস্যারও দ্রুত সমাধান করতে হবে। এজন্য প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।

ভুলে গেলে চলবে না, প্রকল্পে বারবার সংশোধনী আনা হলে অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণের মাধ্যমে অর্থ পকেটস্থ করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে দুর্নীতির প্রসার ঘটে। দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের গুণগত মান ধরে রাখতে না পারায় দেশবাসী এর তেমন সুফল পায় না।

কাজেই প্রকল্প কতটা সুন্দর তা দেখার আগে দেখতে হবে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে কিনা এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, কেনাকাটায় দুর্নীতি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে লুটপাট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি অনুমোদিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রকল্পের টাকা সঠিক খাতে ব্যবহার না করে ভুয়া, অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাৎ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটেরা ও সুবিধাভোগীদের পকেটে চলে যাওয়া মোটেই কাম্য নয়।

অপ্রিয় হলেও সত্য, অনেক প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের কথা মাথায় রেখেই। কে কত বেশি কমিশন দেবে, তার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বণ্টন করা হয়। সরকার শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে, এটাই প্রত্যাশা।