ডিসিদের থানায় উপস্থিতি: জনসেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে

  সম্পাদকীয় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএমপি

পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা নিজের এলাকাধীন থানাসমূহে অবস্থানের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এছাড়া জোনাল এসি ও এডিসিরা নিয়মিত থানাগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। নিরীহ মানুষ থানায় এসে প্রাপ্য সেবা তো পায়-ই না, তার ওপর নানা হয়রানির শিকার হয়ে থাকে।

ফলে মানুষের হয়রানি দূর করে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিসিদের থানায় উপস্থিতি ভালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। নতুন দায়িত্ব নেয়া ডিএমপি কমিশনারের এ নির্দেশনা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও ভালো প্রভাব ফেলবে।

কারণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মানুষকে হয়রানি থেকে বিরত রাখতে চাইবেন। তবে কেবল নির্দেশনা দিয়ে বসে থাকলেই হবে না, নির্দেশনা মোতাবেক ডিসিরা কাজ করছেন কিনা ও নেতিবাচক কার্যক্রমে জড়াচ্ছেন কিনা, তা-ও নজরদারি করতে হবে।

পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার সবাইকে নিয়ে কাজ করা ও সবার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হতে ও মাদকাসক্ত না হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কেউ মাদকাসক্ত হলে তার চিকিৎসা করা হবে; কিন্তু না জানালে ডোপ টেস্টে ধরা পড়লে চাকরিচ্যুতির ঘোষণাও দিয়েছেন। আমরা মনে করি, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য যেভাবে মাদকাসক্তি, এমনকি মাদক ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়ছেন তাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

এর সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেরও সম্পর্ক থাকায় জিরো টলারেন্স নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে, অন্যথায় নয়।

নিরীহ মানুষকে যথাযথ সেবা না দেয়া, সহায়তার বদলে হয়রানি করা ও ঘুষ আদায়ের মতো ন্যক্কারজনক অভিযোগ তো আছেই, নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করা, একজনের স্থানে অন্যজনকে আসামি করার মতো বহু জঘন্য অপরাধের খবরও মাঝে মধ্যে কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আসে।

এ অবস্থায় পুলিশের সেবার মানোন্নয়ন, মানুষকে সুষ্ঠু ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা এবং অহেতুক হয়রানি বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ দরকার। এজন্য ডিসিদের কিছু সময় থানায় উপস্থিত হয়ে মানুষের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি থানায় জিডি ও মামলাসংক্রান্ত ছক প্রেরণ করে প্রতিদিন সেগুলোর তথ্য যাচাই ইতিবাচক উদ্যোগ। পুলিশের জবাবদিহিতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অপরাধ কমিয়ে আনা যাবে, এতে সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×