দুটি নৃশংস ঘটনা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে

  সম্পাদকীয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুবেল হোসেনের দুই হাতের কব্জি কেটে নিয়েছে ‘ফয়েজ বাহিনী’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুবেল হোসেনের দুই হাতের কব্জি কেটে নিয়েছে ‘ফয়েজ বাহিনী’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে চলেছে। গতকালের যুগান্তরে নৃশংসতার এমন দুটি খবর ছাপা হয়েছে, যা অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে। প্রথম ঘটনায় দুই হাতের কব্জি হারিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক আম ব্যবসায়ী।

বুধবার গভীর রাতে পদ্মা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে কথিত ‘ফয়েজ বাহিনী’র সদস্যরা আলোচ্য আম ব্যবসায়ীর দুই হাতের কব্জি কেটে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা বিচ্ছিন্ন কব্জি দুটি নিয়ে উল্লাস করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি আরও নৃশংস।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক গৃহবধূ ও তার দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জনৈক সুমন রাতের ডিউটি সেরে সকালে বাসায় এসে দেখতে পান তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ।

শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়, প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে নানা ধরনের অঘটনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় কেউ নিহত হচ্ছেন, কেউ বা হচ্ছেন আহত।

দেশে অপমৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। আইন-কানুন, আদালত কোনোকিছুরই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। মানুষ কেন এত সহিংস হয়ে উঠছে, কেন তার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে জিঘাংসা- এটা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধী ও অপরাধপ্রবণদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও।

অবশ্য এটাও ঠিক, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় কোথায় কে কীভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে, তা বুঝতে পারা খুব সহজ নয়।

তারপরও আমরা বলব, যে হারে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তা এত বেশি যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাড় দিয়ে কথা বলা যায় না। কোনো ব্যাখ্যাতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবনতিকে মেনে নেয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আদৌ কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, সুশাসনের অভাবেই অপরাধপ্রবণতার জন্ম হয়।

আইন তার নিজস্ব গতিতে না চললে মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতার জন্ম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করতে চাইলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে ন্যায়নীতি ও আদর্শ।

দেখা গেছে, সংঘটিত অপরাধগুলোর একটি বড় অংশই ঘটে থাকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। অপরাধ করে প্রভাবশালীদের কল্যাণে দায়মুক্ত থাকা যাবে- এ বিশ্বাস থেকেই ঘটানো হয় অনেক অপরাধ।

তাই সরকারের উচ্চ মহলের উচিত হবে সমাজে এমন এক বার্তা জারি রাখা, যাতে অপরাধী ও অপরাধপ্রবণরা মনে করবে যে, অপরাধ করলে তাদের নিস্তার নেই।

সবচেয়ে বড় কথা, অপরাধীদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের জন্ম দেয়- এ এক অতি সাধারণ কথা। তাই সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করতে হবে।

এ জন্য সক্ষমতা বাড়াতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। উপরে যে দুটি নৃশংস ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রকৃত দোষীকে অবিলম্বে নিয়ে আসতে হবে আইনের আওতায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×