দেশীয় পণ্য কিনুন

  মো. হাবিবুর রহমান ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় ব্যাগ

বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে আমাদের দেশে পণ্য কেনাবেচা বেশি হয়। যেমন: ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি। যেহেতু এ দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ লোক মুসলমান, সেহেতু ঈদের সময় বেচাকেনা বেশি হয়। ব্যবসা হয় শতকোটি টাকার।

এ ছাড়াও সারা বছর কমবেশি বেচাকেনা হয়। প্রশ্ন হল, আমরা বাজারে গিয়ে কতজন দেশীয় পণ্য কিনি? অনেকে বলে থাকেন, দেশীয় পণ্যের মান ভালো না। কেউ কি ভেবে দেখেছেন, আমরা যদি দেশীয় পণ্য না কিনি, তাহলে মান ভালো হবে কীভাবে।

একটা কারখানায় উৎপাদিত পণ্য যদি মোটামুটি চলে, তাহলে ওই কারখানার মালিক চিন্তা করবেন কীভাবে পণ্যটির মান বাড়ানো যায়। কিন্তু বাজারে যদি পণ্য না চলে, মালিক তার শ্রমিকদের বেতন দিতে না পারেন, তাহলে তিনি কীভাবে পণ্যের মান বৃদ্ধির দিকে নজর দেবেন?

আপনি হয়তো বলবেন, ‘আমি তো এই দামে আরও ভালো মানের পণ্য পাচ্ছি। তাহলে মানহীন পণ্য কিনব কেন?’ আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আপনি নিয়মিত ভারত ও চীনের পণ্য কিনছেন বলেই তারা পণ্যের মানের উন্নতি করতে পারছে।

একটা উদাহরণ দিই। অনেকেই জানেন জাপানি বলপেন ‘রেড লিফ’ আশির দশকে এ দেশে দেদার চলত। এ কলমের দাম ছিল ১০ টাকা। এ সময় কিছু ব্যবসায়ী এগিয়ে এলেন, তারা ৩-৪ টাকার মধ্যে বলপেন তৈরি করতে সক্ষম হলেন। ৩ টাকা দামের বলপেন ইকোনো ও রাইটার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল।

তখন থেকে ধীরে ধীরে রেড লিফ উঠে গেল। বাজার দখল করল দেশীয় কোম্পানিগুলো। বর্তমানে বিভিন্ন দেশীয় কোম্পানি উন্নতমানের কলম তৈরি করছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমরা সবাই দেশের উৎপাদিত পণ্যটি কিনেছিলাম বলে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল, ভৈরবের জুতার কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না; কারণ এই ঈদেও তাদের তেমন বেচাবিক্রি নেই। ঈদ উদ্যাপন করছি আমরা, কিন্তু শত শত কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে বিদেশিরা। আর আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীরা মার খাচ্ছেন।

পত্রিকাটি লিখেছিল ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য। বাজারে যদি পণ্য বিক্রি না হয়, তাহলে প্রণোদনা দিয়ে কি সেই শিল্পকে বাঁচানো যায়?

আসলে আমাদের দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে। যদি তা না হতো, তাহলে বিদেশি পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যেত না। যে দেশ ত্রিশ লাখ শহীদের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে, সে দেশের জনগণ দেশীয় পণ্য কিনতে লজ্জাবোধ করবে কেন?

আমরা যদি একটা দেশীয় পণ্য কিনি, তাহলে সেই টাকাটা কোথায় যাবে? প্রথম থাকবে আমাদের দেশের মালিকের কাছে। তারপর যাবে শ্রমিকের কাছে। পণ্য যদি ভালো চলে, তাহলে যে কোনো মালিক তার উৎপাদিত পণ্যের মান বৃদ্ধি করবে তার সুনাম বৃদ্ধির জন্য।

আর বাংলাদেশের পণ্যের মান কি খারাপ? খারাপ হলে তৈরি পোশাক রফতানিতে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে থাকি কী করে? আমাদের দেশে তৈরি রিফ্রিজারেটর অনেক দেশে রফতানি হয়। আমাদের ওষুধ বিশ্বের ৭০টি দেশে রফতানি হয়। বিদেশিরা আমাদের পণ্য ব্যবহার করতে পারলে আমরা কেন পারব না?

তাই আসুন সবাই দেশীয় পণ্য ব্যবহার করে দেশপ্রেমের পরিচয় দেই। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ।

মো. হাবিবুর রহমান : ক্রেডিট সুপারভাইজার, যুব উন্নয়ন অফিস, নরসিংদী

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×