যুবলীগ নেতার বিত্তবৈভব: আন্ডারওয়ার্ল্ড বলতে কিছু থাকা চলবে না

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুবলীগ নেতা

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদের পর গ্রেফতার হয়েছেন একই সংগঠনের আরেক প্রভাবশালী নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সাত দেহরক্ষীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শামীমকে গ্রেফতারের পর যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা অবিশ্বাস্যই বলা যায়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের কাগজপত্র, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, দেহরক্ষীদের সাতটি শটগান, গুলি এবং কয়েক বোতল বিদেশি মদ। শামীমকে গ্রেফতারের আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদকে।

ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের সভাপতি খালেদ দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতার করা ছাড়াও রাজধানীর আরও কয়েকটি ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বলাবাহুল্য, যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতারের পর এই সংগঠনটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যুবলীগের আন্ডারওয়ার্ল্ডটি সম্পর্কেও মানুষের মধ্যে এক নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম হয়েছে। সংগঠনটির কিছু নেতা তাদের সাংগঠনিক শক্তি ব্যবহার করে অকল্পনীয় বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন পর কেন এই শুদ্ধি অভিযান?

সরকারের উচ্চ মহল কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো খবরই রাখত না? ক্যাসিনো কালচার অথবা জিকে শামীমের টেন্ডারবাজি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুই জানত না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারেই এসব অপকর্ম সাধিত হয়েছে এবং তারা অবৈধভাবে উপার্জিত টাকার ভাগ পেয়েছেন?

শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সরকারি উচ্চ মহলের প্রভাবশালীদের অনেকেই যে জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদের অন্যায় কাজের সহযোগী, এ কথা অবিশ্বাস করা চলে না। আমরা মনে করি, সমস্যাটির গোড়ায় হাত দিলে অনেক রাঘববোয়ালেরই অপকর্ম বেরিয়ে আসবে। পত্রিকায় এমন খবরও বেরিয়েছে যে, জিকে শামীম সাবেক এক মন্ত্রীকে বস্তাভর্তি টাকা দিতেন। তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেল সেই মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারি দল আওয়ামী লীগেরও কেউ যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। আমরা চাই, তার এই কথা শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে না, বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটবে।

বর্তমান সরকার শক্ত হাতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক দমন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং এক্ষেত্রে অনেকটাই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও যে অভিযান শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। এটি সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আরেকটি কথা, আমরা লক্ষ করছি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোনো অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয় না।

প্রধানমন্ত্রী মুখ খুললেই সবাই তৎপর হয়। কথা হল, আইন চলবে তার নিজস্ব গতিতে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা করতে হবে কেন? এটা বোঝা খুবই সোজা, যুবলীগ সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন ছিল বলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়নি। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×