বন্ধকি সম্পত্তি থেকে ঋণ আদায়: যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত আইন করা হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাপি ঋণ

খেলাপি ঋণ বর্তমানে আমাদের ব্যাংক খাত তথা গোটা অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের আমানতের অর্থ থেকে দেয়া ঋণ আদায় করতে না পারায় একদিকে আমানতকারীদের সুদ দিতে হয়; অন্যদিকে নগদ টাকা ঋণখেলাপিদের হাতে আটকে থাকার কারণে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ করতে না পেরে নানামুখী লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যাংককে।

বহু ব্যাংক এ কারণে মূলধন সংকটে পড়ে ঋণ দিতে পারে না, আবার সরকারি ব্যাংকগুলোকে জনগণের করের অর্থ থেকে মূলধন জোগান দিতে হয়। এ অবস্থায় বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টি দুরূহ বলে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

জানা যায়, মূলত পাঁচটি কারণে সম্পত্তি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। সেগুলো হল- ঋণ বিতরণের সময় যেভাবে সম্পদ বন্ধক দেয়া হয়, খেলাপি হলে সেই অবস্থায় পাওয়া যায় না, ভুয়া জামানত প্রদান, একই জামানত একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রাখা, বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখানো এবং ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনিয়ম। আমরা মনে করি, পাঁচটি কারণের মধ্যে প্রধানটি হল ব্যাংক কর্মকর্তা ও এর পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দায়িত্বে অবহেলা। কমিশন বাণিজ্য ও অন্যান্য দৃশ্য-অদৃশ্যমান সুবিধার জন্য ব্যাংকের শীর্ষ মহল থেকে ঋণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুয়া জামানত ও সম্পত্তির নানা সমস্যা, এমনকি গ্যারান্টারের ত্রুটিগুলো গোপন করে থাকেন। এ অবস্থায় ভেতর থেকে শুদ্ধি নিশ্চিত করা ছাড়া দুর্বল আইনি ভিত্তি দূর করে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হওয়া সম্ভব হবে না।

খেলাপি ঋণ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম-বেশি হয়। তবে আমাদের মতো লাখো কোটি টাকার ঋণখেলাপি হওয়ার নজির নেই। আমাদের নিজেদের আইনে খেলাপি ঋণ আদায় যেহেতু কঠিন, সেহেতু উন্নত দেশগুলো, বিশেষত মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ কীভাবে ঋণখেলাপিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এবং অন্যান্য উপায়ে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরেছে তা পর্যালোচনা করে আমাদের অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই। বন্ধকি সম্পত্তির সমস্যা ও একই জমি একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্র কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ভালোভাবে অনুসরণ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত আইন তৈরির মাধ্যমে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে হবে অবিলম্বে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×