কোচিং বাণিজ্য ও নীতিমালা

  মিহির রঞ্জন তালুকদার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিং বাণিজ্য

শুরুতেই আমি একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। আপনারা কি কোনোদিন প্রাইভেট পড়েননি? আপনারা যখন কোচিং বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন, তখনও কিন্তু আপনার ছেলেমেয়েকে কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়াতে দিয়ে এসেছেন! আপনাদের মনে হতে পারে আমি একজন কোচিংবাজ শিক্ষক।

না, আমি প্রাইভেট পড়াই না। আমি উপজেলা পর্যায়ের সামান্য একজন কলেজ শিক্ষক। সেখানে খুব কম শিক্ষার্থীরই প্রাইভেট পড়ার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে।

তবে হ্যাঁ, কিছু ছাত্র আমার কাছেও প্রাইভেট পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, যারা বিভিন্ন কারণে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেনি। এতে তাদের কোনো দোষ নেই। ছাত্রাবস্থাতেই তাদের জীবিকার পেছনে ছুটতে হয়। তাই পরীক্ষার আগে দু’একমাস স্যারের কাছে পড়লে যদি পরীক্ষায় পাসের ব্যবস্থা হয়ে যায়। আমি নিরুপায় হয়েই তাদের ‘না’ বলে দেই।

কারণ ২০১২ সালে সরকার দেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল- ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’। তখন থেকেই প্রাইভেট পড়ানো থেকে বিরত আছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকই প্রাইভেট পড়ে। এখন প্রশ্ন হল, কার কাছে পড়ে? যাদের আদৌ শিক্ষক হওয়ার কাম্য যোগ্যতা নেই, নেই এনটিআরসি’র সনদ, তারাই খুলে বসেছে কোচিং সেন্টার। নীতিমালা জারির পর থেকেই আমার শিক্ষকরা যারা দু’একটি প্রাইভেট টিউশনি করতাম, তারাও তা ছেড়ে দিয়েছি চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে। অন্যদিকে কোচিং সেন্টারগুলোতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে মর্যাদা বেড়েছে কোচিং সেন্টারগুলোর!

বস্তুত অযোগ্যরাই তৈরি করছে কোচিং সেন্টার। কারণ নীতিমালাটি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে অন্য কেউ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেই পারে! কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা এতই ‘মেধাবী’ যে একজন শিক্ষক একইসঙ্গে ইংরেজি, আইটি, অর্থনীতি সবই পড়াতে পারে! তাও আবার কলেজ পর্যায়ে! যাদের সৃজনশীল সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই, তারা ভালোভাবেই ছাত্রদের বুঝিয়ে দেয় কীভাবে আবোলতাবোল (অপ্রাসঙ্গিক) লিখেও সৃজনশীলে নম্বর পাওয়া যায়। ফলে সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থাও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। অনেক সময় শিক্ষাথীরা বলে, তাদের কোচিংয়ের শিক্ষকরা বলে দিয়েছেন সৃজনশীলে যে কোনো কিছু লিখে দিয়ে এলেই নম্বর পাওয়া যায়। এমনকি উদ্দীপক লিখে দিয়ে এলেও নাকি নম্বর পাওয়া যায়! পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় ঠিকই আমরা এটি বুঝতে পারি। আবার কোনো কোনো পরীক্ষকের কাছে তারা পাসও করে যায়। ফলে তাদের কাছে সৃজনশীলের ব্যাখ্যা নেতিবাচকই থাকে। এ জন্যই বলি, শিক্ষকদের ছাত্র পড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সঠিক নির্দেশনা। শিক্ষদের জ্ঞানচর্চার প্রয়োজন এবং তা সম্ভব ছাত্র পড়ানোর মধ্য দিয়েই।

দেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হোক সেটা সবাই চায়। কিন্তু শুধু শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করলেই তো কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে না। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে কোচিং সেন্টারগুলোকেও এই নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

মিহির রঞ্জন তালুকদার : শিক্ষক, বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×