বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি ‘ব্যাংকিং খাতের বিরাজমান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে উদ্বেগজনক হারে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিগত কয়েক বছরে এসব ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কয়েকটি ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না। অন্যদিকে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সাত ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি ছিল ৯ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। দেখা যাচ্ছে, কয়েক বছর ধরে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঘাটতি পূরণে সরকার মূলধন জোগান দিচ্ছে। ফলে দেশের আর্থিক খাতে নৈতিক বিপদ বাড়ছে এবং এটি ব্যাংকগুলোর জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বটে। বস্তুত মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খেলাপি ঋণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমিয়ে আনা ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যাংকগুলোয় শ্রেণী ও অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এসব ঋণের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকার কারণে যে খেলাপি ঋণের বিস্তার ঘটছে, তা বলাই বাহুল্য। সাধারণত খেলাপি ঋণের প্রায় পুরোটাই মন্দঋণে পর্যবসিত হওয়ায় তা লোকসান বা পুঁজি ঘাটতি হিসেবে দেখানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এ ধরনের ঘাটতি মিটিয়ে থাকে সরকারি তহবিল থেকে টাকা গ্রহণ করে, যা মূলত জনগণের দেয়া ট্যাক্স। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে এ ঘাটতি মেটায়। নিয়মানুযায়ী ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে গড়ে ২৫ ভাগ মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, যা ‘প্রভিশন’ নামে পরিচিত। প্রভিশনে রাখা অর্থ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারে না বিধায় ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর কুফলও সাধারণ গ্রাহকদের বইতে হয়।

ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অসৎ কর্মকর্তাদের দাপট ও আধিপত্য রোধের বিষয়েও নজর দেয়া উচিত। দেখা গেছে, অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি খেলাপি ঋণের প্রসার ঘটায়। মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ নেয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত করার প্রবণতা শুরুতেই রোধ করা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। দুঃখজনক হল, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা একধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যহারের মাধ্যমে দেয়া এসব ঋণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা গেলে খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য অনিয়ম হ্রাস পাবে বলে আমরা মনে করি।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter