সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু

দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দূর্ঘটনা

বেসরকারি সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) জানিয়েছে, গত তিন বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক। সংগঠনটির দেয়া তথ্য অনুসারে ২০১৭ সালে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৩৪৯টি। এতে ৫ হাজার ৬৪৫ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৯০৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ১৪৭টি দুর্ঘটনায় ২০১ জন মারা গেছেন; আহত হয়েছেন ১১৭ জন। আর নৌপথে ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশের সব জেলার তুলনায় গত বছর ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলায় ৪০১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলে মারা গেছেন ৪২৭ জন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিরোধী দল, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সবাই উদ্যোগ নিলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। বস্তুত নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের নিহত, আহত বা পঙ্গু হওয়া থেকে রক্ষা করবে। দুঃখজনক হল, দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।

বিশ্বে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আহত হয় অন্তত ৫০ মিলিয়ন মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর এ হার এইচআইভি-এইডস, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ায় সম্মিলিত মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি, যার অধিকাংশই ঘটছে বাংলাদেশসহ অনুন্নত দেশগুলোয়। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাইলে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভুলে সমস্যাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা, গাড়ির নিবন্ধন এবং সব চালকের লাইসেন্স থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম ইত্যাদি দূর করা জরুরি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter