পেঁয়াজের দামে উল্লম্ফন
jugantor
পেঁয়াজের দামে উল্লম্ফন
কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর একদিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ সারা দেশে পেঁয়াজের বাজারে যে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি।

তারা সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার লোভেই এটা করেছে। জানা গেছে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। ভারত ছাড়া আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কাজেই ভারতের পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর হঠাৎ পেঁয়াজের বাজারে কেন এমন অস্থিরতা সৃষ্টি হল এটাই প্রশ্ন।

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার পেঁয়াজের ট্রাক খাতুনগঞ্জে যথারীতি প্রবেশ করলেও ভারত রোববার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করেনি। মনে হচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। আবার কেউ কেউ এ সুযোগে অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পর পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৯০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় নেমে আসে।

পেঁয়াজের বাজারের এ অস্থিরতা নতুন নয়। শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য মসলার বাজারদরও মাঝে মাঝে অস্থির হয়ে ওঠে। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানিকৃত পেঁয়াজ এসে পৌঁছেছে এবং জাহাজ থেকে পেঁয়াজ খালাসও শুরু হয়েছে। আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ বাজারে আসতে দু’একদিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া আরও দুই দেশে থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পথে রয়েছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ যাতে যথাসময়ে এসে পৌঁছায় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

দাম বাড়লেও পেঁয়াজের উৎপাদকরা তা পান না। পচনশীল হওয়ায় কৃষক পেঁয়াজ জমি থেকে ঘরে তোলার পর তা বিক্রি করে দেন। সারা দেশে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে পেঁয়াজের বাজারে আর এমন অস্থিরতা দেখা দেবে না।

পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেয়া দরকার। অতি মুনাফার লোভে যারা নিত্যপণ্য মজুদ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে মাঝে মাঝে নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই যায়।

পেঁয়াজের দামে উল্লম্ফন

কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর একদিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ সারা দেশে পেঁয়াজের বাজারে যে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি।

তারা সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার লোভেই এটা করেছে। জানা গেছে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। ভারত ছাড়া আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কাজেই ভারতের পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর হঠাৎ পেঁয়াজের বাজারে কেন এমন অস্থিরতা সৃষ্টি হল এটাই প্রশ্ন।

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার পেঁয়াজের ট্রাক খাতুনগঞ্জে যথারীতি প্রবেশ করলেও ভারত রোববার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করেনি। মনে হচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। আবার কেউ কেউ এ সুযোগে অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পর পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৯০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় নেমে আসে।

পেঁয়াজের বাজারের এ অস্থিরতা নতুন নয়। শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য মসলার বাজারদরও মাঝে মাঝে অস্থির হয়ে ওঠে। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানিকৃত পেঁয়াজ এসে পৌঁছেছে এবং জাহাজ থেকে পেঁয়াজ খালাসও শুরু হয়েছে। আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ বাজারে আসতে দু’একদিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া আরও দুই দেশে থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পথে রয়েছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ যাতে যথাসময়ে এসে পৌঁছায় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

দাম বাড়লেও পেঁয়াজের উৎপাদকরা তা পান না। পচনশীল হওয়ায় কৃষক পেঁয়াজ জমি থেকে ঘরে তোলার পর তা বিক্রি করে দেন। সারা দেশে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে পেঁয়াজের বাজারে আর এমন অস্থিরতা দেখা দেবে না।

পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেয়া দরকার। অতি মুনাফার লোভে যারা নিত্যপণ্য মজুদ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে মাঝে মাঝে নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই যায়।