দর প্রস্তাবেই দুর্নীতি: জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

  সম্পাদকীয় ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার সঙ্গে জড়িতদের পক্ষ থেকেই। অন্যথায় অস্বাভাবিক দামে পণ্য কেনার মাধ্যমে জনগণের করের অর্থের বিপুল অপচয়ের ঘটনা ঘটত না।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অস্বাভাবিক দামে বালিশ ও অন্যান্য তৈজসপত্র কেনার ঘটনা আড়াল না হতেই ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দা কেনায় লাখ লাখ টাকার বিল করা হয়।

এবার চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অস্বাভাবিক দামে সাধারণ মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

আশার কথা, বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে ওই দর প্রস্তাব সংশোধনীর জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। সব ক্ষেত্রে যদি পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এভাবে সতর্ক হতো, তবে দুর্নীতি অঙ্কুরেই রোধ করা যেত।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর প্রস্তাবটিতে একটি সার্জিক্যাল ক্যাপ ও মাস্কের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। অথচ এর বাজারমূল্য মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা। একইভাবে নির্ধারিত সাইজের একটি রেকসিনের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা; কিন্তু সেটির বাজারমূল্য মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া ২০-৩০ টাকার স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লাভসের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫ হাজার ২৫০ টাকা, টাওয়েল ৫ হাজার ৮৮০ টাকা, ১৫ থেকে ৫০ টাকার ৫ এমএল সাইজের টেস্টটিউব-গ্লাস বেডের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা ও ৭৫০ থেকে ২ হাজার টাকার বালিশের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার বালিশের কভারের দর প্রস্তাব করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এমন প্রস্তাবের পেছনে সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারি করার মনোভাবই কাজ করেছে।

কেবল কেনাকাটায়ই নয়, বিভিন্ন প্রকল্পে যেভাবে পিয়ন, আয়া ও বুয়াদের মাসিক বেতন লাখ লাখ টাকা দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, তার সঠিক তদন্ত হওয়া ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা দরকার।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের দর প্রস্তাব স্বাভাবিকের বাইরে হলে সে ক্ষেত্রে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন এমন অস্বাভাবিক দর প্রস্তাব করা হল ক্রয় কমিটির সদস্যদের তার জন্য জবাবদিহির মুখে ফেলতে হবে এবং সদুত্তর দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা অনেক কষ্টে দেশের জন্য খাটলেও দুর্নীতির কারণে কাক্সিক্ষত অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মনে করি, সরকারি কেনাকাটায় ও বিভিন্ন প্রকল্পে নজরদারি করে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি কমিয়ে আনা খুবই সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×