দুদকে অভিযোগের পাহাড়

ভিত্তিহীন অভিযোগকারীদের শাস্তি হওয়া দরকার

  সম্পাদকীয় ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদকে অভিযোগের পাহাড়

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ এবং সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার জন্য।

দুদক সব ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে না পারলেও তফসিলভুক্ত অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে কাজ করছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে-বেনামে অবৈধ পন্থায় উপার্জিত সম্পদ, ঘুষ-উপরি গ্রহণ ও প্রদান, সরকারি অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ বা এর ক্ষতিসাধন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ইত্যাদি।

এর বাইরে বেসরকারি ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ও খতিয়ে দেখতে পারে দুদক। এটাই যখন দুদকের কর্ম-আওতা, তখন গত ৪ বছরে দুদক প্রায় ৬৩ হাজার অভিযোগ পেয়েছে। এসবের মধ্যে অনুসন্ধান হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৪০৮টির।

বাকি ৫৯ হাজার ৬৩৯টি যাচাই-বাছাইয়ে ভিত্তিহীন এবং দুদকের তফসিলবহির্ভূত হিসেবে ধরা দিয়েছে। এগুলো দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়নি। শতকরা হিসেবে মাত্র ৭ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, দুদকে ভিত্তিহীন অভিযোগও দায়ের করা হয় এবং সেই সংখ্যা অনেক। ধরে নেয়া যায়, শত্রুতাবশত অথবা কারও ক্ষতি করার লক্ষ্য নিয়েই একশ্রেণির মানুষ ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো করে থাকে। ব্যক্তিগত রেষারেষি, ভূমি নিয়ে বিরোধ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, পারিবারিক বিরোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে দুদকে অভিযোগ করা হয় বলে অনুমান করা যায়।

আমরা মনে করি, ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করে থাকেন যারা, তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। অবশ্য কেউ যদি দুদকের তফসিলবহির্ভূত কোনো সঠিক অভিযোগ দায়ের করে, সেক্ষেত্রে অভিযোগকারীর দোষ ধরা চলবে না।

দ্বিতীয় কথা, কোন কোন দুর্নীতি হটলাইনের মাধ্যমে দুদকে জমা দেয়া যাবে, তা বিজ্ঞাপন আকারে দুদককে নিয়মিতভাবে প্রচার করতে হবে। তা না হলে দুদকে অযাচিত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়তেই থাকবে এবং সেটা দুদকের জন্য একটি বাড়তি ঝামেলা তৈরি করতে থাকবে।

চার বছরে জমা পড়া অভিযোগগুলোর যে ৭ শতাংশ আমলে নিয়েছে দুদক, সেগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। এসব অভিযোগ যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

দেশে এখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে। এ অবস্থায় স্বপ্রণোদিত হয়ে দুর্নীতি উদ্ঘাটনের পাশাপাশি জনগণের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ জমা পড়ছে, সেগুলোর ব্যাপারেও দুদককে কর্মতৎপর হতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময়টাতে দুদকের শক্তিশালী ভূমিকা একান্তভাবেই জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×