খেলার মাঠগুলো ফিরিয়ে দিন
jugantor
খেলার মাঠগুলো ফিরিয়ে দিন

  মাহমুদ ইউসুফ  

০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু-কিশোরদের মনোবিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখাপড়ার চেয়ে খেলাধুলার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। কিন্তু খেলাধুলার জন্য চাই পর্যাপ্ত মাঠ।

এক সময় সর্বত্র ছিল দিগন্ত বিস্তৃত খোলা ময়দান। তখন নির্দিষ্ট মাঠের দরকার পড়ত না। শৈশব ও কৈশোরে আমরা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই খেলতে পারতাম।

হাডুডু, ফুটবল, দাঁড়িয়াবান্দা ইত্যাদি খেলায় কখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসত, কেউ টের পেতাম না। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। কল্পনার সাগরে ভাসে দুরন্ত শৈশবের সেই অনুভূতি। আজকালকার শিশু-কিশোরদের কাছে এসব রূপকথার মতো।

শিশু-কিশোরদের আউটডোর গেমসের বিষয়টা মোটেও হেলাফেলার নয়। মোবাইল, ইন্টারনেট, টেলিভিশন শিশু-কিশোর বা ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ভালো কিছু নয়। শরীরচর্চা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক।

সুস্থ দেহ, সুন্দর মন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যাবশ্যক। শারীরিক ফিটনেসের ব্যাপার তো আছেই। তরুণরা ক্রমেই মুটিয়ে যাচ্ছে। কাউকে কাউকে দেখে মনে হয় যেন একশ’ কেজির আটার বস্তা পড়ে আছে রিকশায় বা ক্লাসরুমের বেঞ্চে। খেলাধুলাহীন জীবনে এরকমই প্রাপ্য। এসব তরুণের ভবিষ্যৎ কী!

খেলাধুলাবিমুখ হয়ে শুধু ডিজিটালমুখী হওয়ার কারণেই এ দুরবস্থা। একাডেমিক পাঠ্যসূচির চাপ তো আছেই। তবে বর্তমান সময়ের খেলাধুলাহীন জীবনের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা অনেকটা দায়ী।

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ এখন আর কোথাও দেখা যায় না। অতীতে ছেলেমেয়েরা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মনের উল্লাসে খেলাধুলা করে দিন কাটিয়ে ফিরত। সেসব জমিজিরাত এখন বিলুপ্ত। সেসব স্থানে গড়ে উঠেছে হয় বাড়িঘর, নয়তো অফিস-আদালত কিংবা হাইওয়ে।

আবার কোথাও চাষের আওতায় নেয়া হয়েছে জমি। মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর এখন আর খেলাধুলার উপযোগী নয়। প্রশাসন, ক্রীড়া বিভাগ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও নির্বিকার। অথচ খেলার মাঠের দিকে নজর দেয়া অতীব জরুরি।

প্রতি গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে খেলার মাঠ দরকার- যেখানে শিশুরা স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবে। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে উঠতে পারবে। ঘরের চার দেয়ালে আর বন্দি থাকতে হবে না। এভাবেই তাদের দৈনন্দিন জীবন হবে আনন্দঘন। এভাবে বেড়ে ওঠার মধ্যেই জীবনের সত্যিকার সুখ নিহিত।

খেলার মাঠ তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলর, মেম্বার, চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বেশি। বেদখল হওয়া মাঠগুলো পুনরুদ্ধার, জমি একোয়ার করে নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। যেখানে কোনোভাবেই মাঠের জমি পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে বহুতল ভবনের নিচতলা খালি রাখা যেতে পারে। অট্টালিকার নিচতলা খালি থাকলে শিশু-কিশোররা অন্তত দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারবে।

মাহমুদ ইউসুফ : প্রাবন্ধিক

 

খেলার মাঠগুলো ফিরিয়ে দিন

 মাহমুদ ইউসুফ 
০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু-কিশোরদের মনোবিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখাপড়ার চেয়ে খেলাধুলার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। কিন্তু খেলাধুলার জন্য চাই পর্যাপ্ত মাঠ।

এক সময় সর্বত্র ছিল দিগন্ত বিস্তৃত খোলা ময়দান। তখন নির্দিষ্ট মাঠের দরকার পড়ত না। শৈশব ও কৈশোরে আমরা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই খেলতে পারতাম।

হাডুডু, ফুটবল, দাঁড়িয়াবান্দা ইত্যাদি খেলায় কখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসত, কেউ টের পেতাম না। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। কল্পনার সাগরে ভাসে দুরন্ত শৈশবের সেই অনুভূতি। আজকালকার শিশু-কিশোরদের কাছে এসব রূপকথার মতো।

শিশু-কিশোরদের আউটডোর গেমসের বিষয়টা মোটেও হেলাফেলার নয়। মোবাইল, ইন্টারনেট, টেলিভিশন শিশু-কিশোর বা ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ভালো কিছু নয়। শরীরচর্চা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক।

সুস্থ দেহ, সুন্দর মন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যাবশ্যক। শারীরিক ফিটনেসের ব্যাপার তো আছেই। তরুণরা ক্রমেই মুটিয়ে যাচ্ছে। কাউকে কাউকে দেখে মনে হয় যেন একশ’ কেজির আটার বস্তা পড়ে আছে রিকশায় বা ক্লাসরুমের বেঞ্চে। খেলাধুলাহীন জীবনে এরকমই প্রাপ্য। এসব তরুণের ভবিষ্যৎ কী!

খেলাধুলাবিমুখ হয়ে শুধু ডিজিটালমুখী হওয়ার কারণেই এ দুরবস্থা। একাডেমিক পাঠ্যসূচির চাপ তো আছেই। তবে বর্তমান সময়ের খেলাধুলাহীন জীবনের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা অনেকটা দায়ী।

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ এখন আর কোথাও দেখা যায় না। অতীতে ছেলেমেয়েরা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মনের উল্লাসে খেলাধুলা করে দিন কাটিয়ে ফিরত। সেসব জমিজিরাত এখন বিলুপ্ত। সেসব স্থানে গড়ে উঠেছে হয় বাড়িঘর, নয়তো অফিস-আদালত কিংবা হাইওয়ে।

আবার কোথাও চাষের আওতায় নেয়া হয়েছে জমি। মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর এখন আর খেলাধুলার উপযোগী নয়। প্রশাসন, ক্রীড়া বিভাগ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও নির্বিকার। অথচ খেলার মাঠের দিকে নজর দেয়া অতীব জরুরি।

প্রতি গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে খেলার মাঠ দরকার- যেখানে শিশুরা স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবে। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে উঠতে পারবে। ঘরের চার দেয়ালে আর বন্দি থাকতে হবে না। এভাবেই তাদের দৈনন্দিন জীবন হবে আনন্দঘন। এভাবে বেড়ে ওঠার মধ্যেই জীবনের সত্যিকার সুখ নিহিত।

খেলার মাঠ তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলর, মেম্বার, চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বেশি। বেদখল হওয়া মাঠগুলো পুনরুদ্ধার, জমি একোয়ার করে নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। যেখানে কোনোভাবেই মাঠের জমি পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে বহুতল ভবনের নিচতলা খালি রাখা যেতে পারে। অট্টালিকার নিচতলা খালি থাকলে শিশু-কিশোররা অন্তত দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারবে।

মাহমুদ ইউসুফ : প্রাবন্ধিক