হাসিনা-মোদির যৌথ বিবৃতি: যত দ্রুত সম্ভব তিস্তাসহ সব সমস্যার সমাধান হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসিনা-মোদির যৌথ বিবৃতি: যত দ্রুত সম্ভব তিস্তাসহ সব সমস্যার সমাধান হোক

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের শেষ দিনে ৫৩ দফার যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর ও এর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সমাধানে পৌঁছতে ভারতের সব অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে তার সরকার। বস্তুত, ২০১১ সাল থেকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময় নানা আশ্বাস দিয়ে আসছে ভারত সরকার। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নেতিবাচক ভূমিকাকেও সামনে আনা হয়েছে, যাতে বলা হয় ফেডারেল সরকার সিস্টেমের কারণে পশ্চিমবঙ্গকে রাজি না করিয়ে এটি করা যাবে না।

যদিও বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে ফেডারেল পদ্ধতির নিয়ম মানা না হলেও কেবল তিস্তার ক্ষেত্রে বিষয়টি সামনে আনার পেছনে অদৃশ্য কারণও থাকতে পারে। তারপরও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে অচিরেই চুক্তিটি সম্পাদন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে আসামের নাগরিকপঞ্জি ও গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার তীব্র আগ্রহ বাংলাদেশের থাকলেও যেভাবে প্রত্যাশা করা হয়েছিল সেভাবে বিষয়গুলো আসেনি। রোহিঙ্গা শব্দ উল্লেখ না করে ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত’ নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসার পাশাপাশি তাদের ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে হাসিনা-মোদি একমত হয়েছেন। এছাড়া নাগরিকপঞ্জির বিষয়টি বিবৃতিতে না এলেও দুই নেতা এ বিষয়ে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে এবং এই সফরের কয়েকদিন আগে নিউইয়র্কে নাগরিকপঞ্জি ভারতের নিজস্ব বিষয় ও তাতে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ দুটি বিষয়ে আমাদের খটকা লেগেছে মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে ভোটদানে জাতিসংঘে ভারতের বিরত থাকা ও নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের মুখে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের হুমকি-ধমকি থেকে। ফলে ভারতের উচিত সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের এসব উদ্বেগ দূর করা।

শেখ হাসিনার এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ও তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টনের কোনো সুরাহা না হলেও মানবিক দিক বিবেচনায় ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করে ত্রিপুরার সাবরুমে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভারতকে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনার বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক; কিন্তু ছাড় কেবল একপক্ষ থেকে দেয়া হলে কোনো সম্পর্কই যে টেকসই হয় না- এ বিষয়টি ভারতকে বুঝতে হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বের কাছে উদাহরণ। এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় তার দেশ। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভারতের কাছ থেকে যেমন বাণী আমরা পাই, কাজের বেলায় তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটে না। ছোট ভূখণ্ড ও সীমিত সামর্থ্যরে পরও আমরা যেভাবে ছাড় দিচ্ছি; তিস্তা চুক্তি, নাগরিকপঞ্জি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও আমাদের পণ্যে অশুল্ক বাধা দূরীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক সব ক্ষেত্রে ভারত আন্তরিক না হলে প্রশ্ন তৈরি হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×