শিক্ষায় মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা

  মো. আশরাফুল হাবীব ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষায় মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা
ফাইল ছবি

জীবন ও প্রকৃতির মধ্যে শিক্ষার যে বিচিত্র উপকরণ ছড়িয়ে আছে তার যথাযথ উপলব্ধির মাধ্যমে জীবনের শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। তাই বিদ্যাপীঠে লব্ধ শিক্ষার সঙ্গে বাইরের জগতের শিক্ষাকে সমন্বিত করতে হয়। শিক্ষায়তনের বাইরে পড়ে আছে বিচিত্র জগৎ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে গৃহীত পাঠে এ জীবনের খবর থাকতে পারে। কিন্তু তা উপভোগ্য ও অভিজ্ঞতালব্ধ করার জন্য বাইরে আসা দরকার। সুদূরকে জানা, অচেনা রহস্য উদ্ঘাটন অপরিচিতের সঙ্গে পরিচয় সাধন- এসব বিষয় মনকে আকৃষ্ট করে।

গত জুনে Modern school management practice programme-এ মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। যাওয়ার সুবাদে সেখানে মানুষের আচরণ, ভাব-বিনিময় পদ্ধতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান আমাকে বেশ চমৎকৃত করেছে। সময়ে সময়ে ছুটে গেছি দর্শনীয় ও নান্দনিক স্থান পরিদর্শন করতে। শিক্ষার প্রতি দারুণ অনুরাগ থাকায় মালয়েশিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খুঁজে ফিরেছি আমার শৈশব ছাত্রজীবন। মানসম্মত ও গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আমার আগ্রহ থাকায় কেন যেন ভিনদেশের মাটিতেও একটা নতুন কিছু আস্বাদনে ইচ্ছা হয়। তার যদি কিছুটা হলেও আমার দেশের কোমলমতি শিশুদের মাঝে দিতে পারি সে চেষ্টাই করছি।

মালয়েশিয়ার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থার আদলে। একটি শিশু প্রথম ধাপে তিন বছর বয়সে ভর্তি হয় কিন্ডারগার্টেনে। তিন বছর বয়সের আগে যে শিক্ষাগ্রহণ ব্যবস্থা চালু আছে সেটা নার্সারি হিসেবে অভিহিত। শহরাঞ্চলে অনেক বেসরকারি স্কুল রয়েছে যা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামে বেশি পরিচিত। গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত ফ্যামিলি কেয়ার প্রোগ্রাম থাকলেও কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলো যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে। প্রাথমিক শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অত্যন্ত কম। নার্সারি থেকে শুরু হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। প্রত্যেক বাবা-মার ধারণা তার সন্তানদের সফলতার শীর্ষে আরোহণের একমাত্র সোপান হল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফল। মালয়েশিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দুটো বিষয়ের ওপর সবচেয়ে গভীরভাবে নজর দেয়া হয়। এক. শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ও পদ্ধতি। দুই. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান পদ্ধতি। মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য মাঝে মধ্যে চীন ও জাপান থেকে প্রশিক্ষকদের নিয়ে আসা হয়। কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিকে পঠিত হয় ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, গণিত, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যজ্ঞান, পরিবেশ ও নৈতিক শিক্ষা।

মালয়েশিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো পর্যাপ্ত বড় পরিসরের। যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য রয়েছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, যেখানে সহজেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে খুবই ফলপ্রসূভাবে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় কোমলমতি শিশুদের কীভাবে শেখালে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে শিক্ষার্থী সহজভাবে শিখতে পারবে এসব বিষয়ের অগ্রগতির জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (পিটিআই)। চাকরিতে যোগদানের পর এক বছর ট্রেনিং কোর্সে অংশ নিতে হয় শিক্ষকদের। শিক্ষকদের যেসব বিষয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেগুলো হল- চাইল্ড সাইকোলজি লার্নিং, টিচিং মেথড, বেসিক অব লার্নিং, ইভালুয়েশন অব পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট। একটি শিশু সম্ভাবনা, মানসিক বিকাশ সাধন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা, নৈতিকতা এসব কিছুর সমন্বয়ে গড়ে উঠতে পারে আদর্শ মানুষ হিসেবে। একজন মা এবং শিক্ষক তা বাস্তবরূপ দান করতে পারেন। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসল কারিগর। এসব কারিগরের ছোঁয়ায় গড়ে উঠুক আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

মো. আশরাফুল হাবীব : শিক্ষক, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×