পিটিয়ে ছাত্র হত্যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত

  সম্পাদকীয় ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিটিয়ে ছাত্র হত্যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশের শিক্ষাঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বস্তুত সর্বস্তরের মানুষই এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ, মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসের জের ধরে যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে এমন প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়। এ হত্যার ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, আবরারকে পেটানোর পর তাকে সিঁড়ির কাছে ফেলে দেয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন যুবক। এ ফুটেজ হত্যাকারীদের শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে। আমরা চাই হত্যাকারীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক এবং তাদের শাস্তি হোক।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবচেয়ে যেটা উদ্বেগের বিষয় তা হল, হত্যার কারণ ভিন্নমত। আবরার ফাহাদ ফেসবুকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। কেউ কোনো বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করতেই পারেন। তার মতের সঙ্গে সবাই একমত হবেন এমন কোনো কথা নেই। তাই বলে তাকে মেরে ফেলা হবে! এ যুগে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে, এটি অকল্পনীয়।

এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনায় আমাদের সমাজে অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা ভেবে শঙ্কিত হতে হয়। এটি বাস্তবিকই চিন্তার বিষয়। আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সংবিধান যে কোনো নাগরিককে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। বাকস্বাধীনতা মানবাধিকারও বটে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই।

তবে বাস্তবতা হল, ভিন্নমতের কারণে হত্যার ঘটনা দেশে আগেও ঘটেছে। জঙ্গিদের হাতে নিহত হয়েছেন একাধিক লেখক ও ব্লগার। সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশের কারণে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে অনেক। এমন অসহিষ্ণুতা সমাজের জন্য একটি অশনিসংকেত। এ অসহিষ্ণুতার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ছাত্রলীগের দিকে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। গত প্রায় ১১ বছর ছাত্রলীগ আলোচনায় এসেছে মূলত হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ছিনতাইয়ের কারণে। সংগঠনটির এ ধরনের কর্মকাণ্ডে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নাখোশ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের জের ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন আনা হয়।

এ ধারাবাহিকতায় ক্যাসিনো, জুয়া ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে যুবলীগ, কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এলো ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, ছাত্রলীগের দিকে আরও দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে। বস্তুত ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী এখন যা করছেন তা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। এগুলো ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অংশ মাত্র। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়াসী হবেন। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হবে- এ প্রত্যাশা আমাদের।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×