ডলারের দাম বৃদ্ধি: ভোক্তা ও আমদানিকারকের ক্ষতি কাম্য নয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডলার

হঠাৎ ডলারের দাম ১৫ পয়সা করে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডলারপ্রতি ক্রয়মূল্য ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা হলেও সোমবার থেকে সেটি বেড়ে ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ডলারের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ে, সর্বোপরি ভোক্তাশ্রেণি তথা সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয় বিদেশি পণ্য কেনার সময়। তবে রফতানিকারক ও রেমিটেন্স প্রেরকরা ডলারের বাড়তি দামের কিছুটা সুফল পাবেন।

আমরা মনে করি, ডলারের দাম বাড়লে লাভ-ক্ষতি কেমন, তা পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা উচিত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোক্তা ও আমদানিকারকদের স্বার্থ দেখা দরকার। কারণ, খাদ্যদ্রব্যসহ আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যই আমদানি করতে হয়।

ডলারের দাম সরকারিভাবে বাড়ানোর পর খোলাবাজারে এর প্রভাব পড়েছে বেশি। সোমবার খোলাবাজারে ডলারপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকায়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা, পর্যায়ক্রমে সেটি ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় স্থিতিশীল হয় চলতি বছরের এপ্রিলে।

এতদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবার ডলারের দাম বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। বস্তুত, যেসব দেশ বেশি রফতানি করে আর কম আমদানি করে, ডলারের দাম বাড়ানো তথা নিজেদের মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে তারাই বেশি লাভবান হয়। কিন্তু আমরা যেহেতু আমদানি বেশি করি, রফতানি করি কম; সেহেতু আমাদের ডলারের দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিকল্প নেই।

জানা যায়, চীন, ভারত ও ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো রফতানিকারক ও প্রবাসী রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের সুবিধা দেয়ার জন্য ডলারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এটি আরও বাড়তে পারে তথা টাকার বিপরীতে ডলার আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে আভাস দিচ্ছেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, রফতানি আয় বাড়াতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে ওঠার জন্য এটা দরকার। কারণ, আমাদের রফতানি আয় কমে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, রফতানি আয় বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন থাকা দরকার, তেমনি ডলারের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেবল রফতানি আয় বিবেচনায় না নিয়ে আমদানি পণ্যে সাধারণ ভোক্তাদের প্রয়োজনীয়তা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা উচিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×