প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

দৃঢ় অবস্থানই কাম্য

  সম্পাদকীয় ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান এবং ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন গত বুধবার।

প্রধানমন্ত্রী এতে চার পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কে কোন দল করে সেটা দেখা হবে না, অপরাধী অপরাধীই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলে অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বুয়েট চাইলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের কিছু বলার নেই।

আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে যেসব বিষয় আলোচিত হচ্ছে দেশে, আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী সেসব বিষয় পরিষ্কার করেছেন তার বক্তব্যে। বর্তমানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তা হল, আবরারের হত্যাকারীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে কিনা। হত্যাকারীরা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলেই এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।

ইতিমধ্যেই হত্যাকারীদের বেশিরভাগ সদস্যকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন শুধু দেখার বিষয় বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও সুচারুরূপে শেষ হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যে নৈরাজ্য চলছে, সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট।

তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলগুলোয় অভিযান পরিচালনার যে কথা বলেছেন, তা পালিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান নৈরাজ্যিক অবস্থার পরিবর্তন হবে বৈকি। আমরাও চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠুক, সব ধরনের নৈরাজ্য ও হঠকারিতা দূর হয়ে সেগুলোয় সাধারণ ছাত্রসমাজের নিরাপত্তা ও লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত হোক।

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকবে কিনা, এ ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক। বিষয়টি একান্তভাবেই বুয়েট কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত। আমাদের বক্তব্য হল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠন থাকতে পারে; কিন্তু তাদের রাজনীতিকে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করা থেকে দূরে থাকতে হবে।

দলীয় রাজনীতিই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যত অনিষ্টের মূল, এটা এখন সবাই উপলব্ধি করছেন। ছাত্রসমাজ তাদের নিজস্ব সমস্যাভিত্তিক আন্দোলন করতে চাইলে তাদের বাধা দেয়ার কিছু নেই। কিন্তু রাজনৈতিক দলের বিশেষত, সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ছাত্রসমাজের একাংশ ক্যাম্পাসে যা খুশি তা-ই করবে, এটা মেনে নেয়া যায় না।

চলমান অভিযান সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী তার দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যেখানেই দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান চলবে। দলের আসন্ন সম্মেলনে এ অভিযানের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এক কথায় বলতে গেলে হত্যা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ইত্যাদি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আমরা মনে করি তিনি তার সংকল্পে অবিচল থাকলে বর্তমান নৈরাজ্য ও অরাজকতা অনেকটাই দূর হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×