ব্যাংকিং খাতের সম্রাট: খেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
jugantor
ব্যাংকিং খাতের সম্রাট: খেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

  সম্পাদকীয়  

১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং খাতের সম্রাট: খেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
ছবি: যুগান্তর

দেশের ব্যাংকিং খাতেও চলছে বড় জুয়াড়িদের দাপট। এরা মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে সেটি আর পরিশোধ না করার জুয়ায় মেতে উঠেছেন।

ফলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও খেলাপি ঋণ আদায় করে আর্থিক খাতকে মসৃণ করতে হলে এ খাতের ‘সম্রাটদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের এক গোলটেবিল বৈঠকে এমনটিই উঠে এসেছে বক্তাদের আলোচনায়।

‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ ও সংস্কারে কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুইনুল ইসলাম।

তিনি নিজের গবেষণার তথ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, ৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপি অন্তত তিনবার দলবদল করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে, ঋণখেলাপিদের কোনো দল নেই। তারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য রাজনৈতিক দলের আশ্রয়কে ব্যবহার করে থাকেন মাত্র।

এছাড়া ঋণখেলাপিদের ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করেছেন। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, মূলত রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটিই করে থাকেন ঋণখেলাপিরা।

সরকারের উচিত ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যেমন অভিযান চলছে, ক্যাসিনো সম্রাটদের ধরা হচ্ছে, একইভাবে ঋণখেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

যেভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাগাম ছেড়ে বাড়ছে, তাতে ঋণ নিয়ে এক ধরনের পাতানো খেলা চলছে বলা হয় গোলটেবিল বৈঠকে। অনেকে আছেন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছেন যে ঋণ ফেরত দেয়া লাগবে না।

খেলাপি ঋণের এ পরিস্থিতি ব্যাংকার, সরকার ও খোদ খেলাপিরা জানেন। ফলে ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন ও শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নেই। ব্যাংকিং খাতের কল্যাণের জন্য মূল প্রবন্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, তিন বছরের জন্য খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ দশ খেলাপিকে সাজা প্রদান, পৃথক ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দঋণ উদ্ধারে ডেট রিকভারি এজেন্সি গঠন ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাতিলসহ কিছু সুপারিশ করা হয়।

আমরা মনে করি, এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। কারণ বহুদিন থেকেই আর্থিক খাতের দেখভালের জন্য পৃথক একটি কমিশনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগের দাবি করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনও সেদিকে নজর দেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে বাধ্য।

কেবল যে খেলাপি ও আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি জুড়ে বসেছে ব্যাংকিং খাতে তাই নয়, সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৯ শতাংশ সুদে শিল্পঋণ দেয়া হবে বলে সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিয়েও ব্যাংকগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।

এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটিও বাস্তবায়ন না করার দুঃসাহস দেখিয়ে চলছেন ব্যাংক মালিকরা। এছাড়া এক ব্যাংকের মালিক-পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে পারস্পরিক যোগসাজশে ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না- এমন ঘটনাও ব্যাংকিং খাতে অনেক।

খেলাপি ঋণ আদায় ও একটি সুষ্ঠু আর্থিক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাবে না।

ব্যাংকিং খাতের সম্রাট: খেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

 সম্পাদকীয় 
১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যাংকিং খাতের সম্রাট: খেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
ছবি: যুগান্তর

দেশের ব্যাংকিং খাতেও চলছে বড় জুয়াড়িদের দাপট। এরা মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে সেটি আর পরিশোধ না করার জুয়ায় মেতে উঠেছেন।

ফলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও খেলাপি ঋণ আদায় করে আর্থিক খাতকে মসৃণ করতে হলে এ খাতের ‘সম্রাটদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের এক গোলটেবিল বৈঠকে এমনটিই উঠে এসেছে বক্তাদের আলোচনায়।

‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ ও সংস্কারে কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুইনুল ইসলাম।

তিনি নিজের গবেষণার তথ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, ৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপি অন্তত তিনবার দলবদল করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে, ঋণখেলাপিদের কোনো দল নেই। তারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য রাজনৈতিক দলের আশ্রয়কে ব্যবহার করে থাকেন মাত্র।

এছাড়া ঋণখেলাপিদের ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করেছেন। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, মূলত রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটিই করে থাকেন ঋণখেলাপিরা।

সরকারের উচিত ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যেমন অভিযান চলছে, ক্যাসিনো সম্রাটদের ধরা হচ্ছে, একইভাবে ঋণখেলাপি রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

যেভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাগাম ছেড়ে বাড়ছে, তাতে ঋণ নিয়ে এক ধরনের পাতানো খেলা চলছে বলা হয় গোলটেবিল বৈঠকে। অনেকে আছেন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছেন যে ঋণ ফেরত দেয়া লাগবে না।

খেলাপি ঋণের এ পরিস্থিতি ব্যাংকার, সরকার ও খোদ খেলাপিরা জানেন। ফলে ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন ও শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নেই। ব্যাংকিং খাতের কল্যাণের জন্য মূল প্রবন্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, তিন বছরের জন্য খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ দশ খেলাপিকে সাজা প্রদান, পৃথক ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দঋণ উদ্ধারে ডেট রিকভারি এজেন্সি গঠন ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাতিলসহ কিছু সুপারিশ করা হয়।

আমরা মনে করি, এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। কারণ বহুদিন থেকেই আর্থিক খাতের দেখভালের জন্য পৃথক একটি কমিশনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগের দাবি করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনও সেদিকে নজর দেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে বাধ্য।

কেবল যে খেলাপি ও আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি জুড়ে বসেছে ব্যাংকিং খাতে তাই নয়, সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৯ শতাংশ সুদে শিল্পঋণ দেয়া হবে বলে সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিয়েও ব্যাংকগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।

এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটিও বাস্তবায়ন না করার দুঃসাহস দেখিয়ে চলছেন ব্যাংক মালিকরা। এছাড়া এক ব্যাংকের মালিক-পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে পারস্পরিক যোগসাজশে ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না- এমন ঘটনাও ব্যাংকিং খাতে অনেক।

খেলাপি ঋণ আদায় ও একটি সুষ্ঠু আর্থিক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাবে না।