চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু: এ ধরনের মৃত্যুর অবসান ঘটবে কবে?
jugantor
চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু: এ ধরনের মৃত্যুর অবসান ঘটবে কবে?

  সম্পাদকীয়  

১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু: এ ধরনের মৃত্যুর অবসান ঘটবে কবে?
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকদের অবহেলায় একজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। জানা গেছে, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ২৩ জুলাই বিএসএমএমইউর রিমাটোলজি বিভাগে ভর্তি হন চাঁদপুর থেকে আসা ২৮ বছরের এক যুবক।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আশ্চর্যজনক হল, এরপর প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় বিএসএমএমইউর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন থাকলেও রোগীর ভাগ্যে জুটেনি উপযুক্ত চিকিৎসা।

নিয়ম ও প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর স্বজনরা বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হলেও কেউই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হননি; রোগীকে একটিবারের জন্যও দেখতে যাননি, দেননি কোনো পরামর্শ। বলা চলে, সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলায় এভাবেই মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে তরতাজা একটি জীবন।

দেখা যাচ্ছে, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছেনি। বিষয়টি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে বর্তমানে দেশের অন্তত ৬৭ ভাগ মানুষ পকেট থেকে টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে।

এর ফলে প্রতিবছর কমপক্ষে ৫ শতাংশ মানুষ সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছে, যা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিপন্থী। দেশে ইদানীং অনেক নামিদামি বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। বিত্তশালীদের কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও পাড়ি জমান।

তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। রোগমুক্তির আশায় এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হচ্ছে- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রাম থেকে সুচিকিৎসার আশায় রাজধানীতে আসা একজন দরিদ্র রোগীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সবকিছুর অবসান ঘটেছে ভাবলে ভুল হবে। যে যাবার, সে চলে গেছে; তবে এভাবে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি যেসব প্রশ্ন রেখে গেছেন, তার উত্তর খোঁজা জরুরি।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ অবশ্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন; তবে তা ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আদৌ কোনো ভূমিকা রাখবে কিনা এবং এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অবসান বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতি, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে কিনা, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তবে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- দুঃখজনক এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না। এ প্রেক্ষাপটে কেবল বিএসএমএমইউ নয়; জনগণের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল, কিèনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।

চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু: এ ধরনের মৃত্যুর অবসান ঘটবে কবে?

 সম্পাদকীয় 
১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু: এ ধরনের মৃত্যুর অবসান ঘটবে কবে?
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকদের অবহেলায় একজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। জানা গেছে, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ২৩ জুলাই বিএসএমএমইউর রিমাটোলজি বিভাগে ভর্তি হন চাঁদপুর থেকে আসা ২৮ বছরের এক যুবক।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আশ্চর্যজনক হল, এরপর প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় বিএসএমএমইউর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন থাকলেও রোগীর ভাগ্যে জুটেনি উপযুক্ত চিকিৎসা।

নিয়ম ও প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর স্বজনরা বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হলেও কেউই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হননি; রোগীকে একটিবারের জন্যও দেখতে যাননি, দেননি কোনো পরামর্শ। বলা চলে, সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলায় এভাবেই মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে তরতাজা একটি জীবন।

দেখা যাচ্ছে, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছেনি। বিষয়টি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে বর্তমানে দেশের অন্তত ৬৭ ভাগ মানুষ পকেট থেকে টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে।

এর ফলে প্রতিবছর কমপক্ষে ৫ শতাংশ মানুষ সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছে, যা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিপন্থী। দেশে ইদানীং অনেক নামিদামি বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। বিত্তশালীদের কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও পাড়ি জমান।

তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। রোগমুক্তির আশায় এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হচ্ছে- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রাম থেকে সুচিকিৎসার আশায় রাজধানীতে আসা একজন দরিদ্র রোগীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সবকিছুর অবসান ঘটেছে ভাবলে ভুল হবে। যে যাবার, সে চলে গেছে; তবে এভাবে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি যেসব প্রশ্ন রেখে গেছেন, তার উত্তর খোঁজা জরুরি।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ অবশ্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন; তবে তা ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আদৌ কোনো ভূমিকা রাখবে কিনা এবং এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অবসান বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতি, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে কিনা, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তবে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- দুঃখজনক এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না। এ প্রেক্ষাপটে কেবল বিএসএমএমইউ নয়; জনগণের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল, কিèনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।