দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ান
jugantor
বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ান

  খন্দকার মাহবুব হোসেন  

১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। প্রতীকী ছবি

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়। সাদাছড়ি হাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পথচলার সাহায্য প্রদানে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে নিরাপদে পথ চলতে পারে সে ব্যাপারে যানবাহন চালকদের সচেতন করা দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আমাদের দেশের এক বিরাট জনগোষ্ঠী দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। একজন শারীরিকভাবে সুস্থ-সবল মানুষ কেবল দৃষ্টিহীনতার কারণে তার পরিবারের, সমাজের তথা রাষ্ট্রের বোঝাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দৃষ্টিহীনতা আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। আজকাল আধুনিক চিকিৎসা দ্বারা দৃষ্টিহীনতা নিবারণ সহজ হয়েছে। চিকিৎসা দ্বারা যাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়, তাদের যদি উপযোগী শিক্ষা বা কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তবে তারা স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে সমাজে স্থান করে নিতে পারে।

বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তি দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর কয়েক হাজার ব্যক্তি বিভিন্ন চক্ষু রোগে সুচিকিৎসার অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে যাচ্ছেন। পুষ্টিহীনতার কারণেও দৃষ্টিহীন হচ্ছে অগণিত শিশু।

এদিক থেকে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস আমাদের দেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উন্নত দেশগুলোয় দৃষ্টিহীনদের স্বাধীনভাবে চলাচলের ক্ষেত্রে সাদাছড়ির ব্যবহার বিশেষ অবদান রাখছে। আমাদের দেশেও ইদানীং অন্ধজনদের মধ্যে সাদাছড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। উন্নত দেশের মতো সাদাছড়ি হাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যাতে নিরাপত্তাসহকারে চলাফেরা করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাফিক আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক।

আমাদের দেশে অনেকেই ছানি রোগজনিত কারণে দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এ রোগ অতি সহজে অস্ত্রোপচারের দ্বারা নিরাময় করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এই সাধারণ চিকিৎসা থেকেও এ দেশের দরিদ্র জনগণ বঞ্চিত। এ সমস্যার সমাধান আমাদের মতো দরিদ্র দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অন্ধ কল্যাণ সংস্থা সাইট সেভার্সের সহযোগিতায় মিরপুরস্থ ‘ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে’ বিনামূল্যে উন্নতমানের অস্ত্রোপচার দ্বারা বিপুলসংখ্যক দরিদ্র চক্ষু রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে ছানি রোগজনিত কারণে যে হারে গ্রাম পর্যায়ে দৃষ্টিহীনের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে অবিলম্বে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি পুষ্টিহীনতা থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য ভিটামিন ‘এ’ বিতরণ করছে এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চক্ষু রোগ নির্ণয়ে তাদের চক্ষু পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে। চিকিৎসার দ্বারা যাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাদের বিশেষ পদ্ধতিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে উপার্জনক্ষম নাগরিক রূপে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে দৃষ্টিহীনদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুরস্থ ‘অন্ধ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এর অন্যতম। সেখানে দৃষ্টিহীনদের টেলিফোন অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সরকার দৃষ্টিহীনসহ প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রথা প্রবর্তন করেছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন নেই। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দৃষ্টিহীনসহ শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হব। দৃষ্টিহীনতা মানবজীবনে এক ভয়াবহ অভিশাপ। দেশবাসীকে এ অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি

 

বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ান

 খন্দকার মাহবুব হোসেন 
১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। প্রতীকী ছবি

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়। সাদাছড়ি হাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পথচলার সাহায্য প্রদানে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে নিরাপদে পথ চলতে পারে সে ব্যাপারে যানবাহন চালকদের সচেতন করা দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আমাদের দেশের এক বিরাট জনগোষ্ঠী দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। একজন শারীরিকভাবে সুস্থ-সবল মানুষ কেবল দৃষ্টিহীনতার কারণে তার পরিবারের, সমাজের তথা রাষ্ট্রের বোঝাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দৃষ্টিহীনতা আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। আজকাল আধুনিক চিকিৎসা দ্বারা দৃষ্টিহীনতা নিবারণ সহজ হয়েছে। চিকিৎসা দ্বারা যাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়, তাদের যদি উপযোগী শিক্ষা বা কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তবে তারা স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে সমাজে স্থান করে নিতে পারে।

বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তি দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর কয়েক হাজার ব্যক্তি বিভিন্ন চক্ষু রোগে সুচিকিৎসার অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে যাচ্ছেন। পুষ্টিহীনতার কারণেও দৃষ্টিহীন হচ্ছে অগণিত শিশু।

এদিক থেকে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস আমাদের দেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উন্নত দেশগুলোয় দৃষ্টিহীনদের স্বাধীনভাবে চলাচলের ক্ষেত্রে সাদাছড়ির ব্যবহার বিশেষ অবদান রাখছে। আমাদের দেশেও ইদানীং অন্ধজনদের মধ্যে সাদাছড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। উন্নত দেশের মতো সাদাছড়ি হাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যাতে নিরাপত্তাসহকারে চলাফেরা করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাফিক আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক।

আমাদের দেশে অনেকেই ছানি রোগজনিত কারণে দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এ রোগ অতি সহজে অস্ত্রোপচারের দ্বারা নিরাময় করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এই সাধারণ চিকিৎসা থেকেও এ দেশের দরিদ্র জনগণ বঞ্চিত। এ সমস্যার সমাধান আমাদের মতো দরিদ্র দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অন্ধ কল্যাণ সংস্থা সাইট সেভার্সের সহযোগিতায় মিরপুরস্থ ‘ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে’ বিনামূল্যে উন্নতমানের অস্ত্রোপচার দ্বারা বিপুলসংখ্যক দরিদ্র চক্ষু রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে ছানি রোগজনিত কারণে যে হারে গ্রাম পর্যায়ে দৃষ্টিহীনের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে অবিলম্বে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি পুষ্টিহীনতা থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য ভিটামিন ‘এ’ বিতরণ করছে এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চক্ষু রোগ নির্ণয়ে তাদের চক্ষু পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে। চিকিৎসার দ্বারা যাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাদের বিশেষ পদ্ধতিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে উপার্জনক্ষম নাগরিক রূপে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে দৃষ্টিহীনদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুরস্থ ‘অন্ধ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এর অন্যতম। সেখানে দৃষ্টিহীনদের টেলিফোন অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সরকার দৃষ্টিহীনসহ প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রথা প্রবর্তন করেছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন নেই। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দৃষ্টিহীনসহ শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হব। দৃষ্টিহীনতা মানবজীবনে এক ভয়াবহ অভিশাপ। দেশবাসীকে এ অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি