ব্যাংকিং খাত সংস্কারে এডিবি: ইতিবাচক ফল বয়ে আনুক

  সম্পাদকীয় ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিবি

খেলাপি ঋণ হ্রাসসহ ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরাসরি কাজ করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। জানা গেছে, এজন্য সংস্থাটির কাজের আওতায় একটি এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনসহ ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পাশাপাশি অর্থঋণ আদালতের বিচারকদেরও খেলাপি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি নেয়া হবে। কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে এডিবি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাও দেবে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

এ বছরের জুন শেষে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা; অবলোপনসহ যার পরিমাণ ইতিমধ্যে দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বর্তমানে খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে এক নম্বর সমস্যা। এক্ষেত্রে এডিবি কাজ করলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব বলেই মনে হয়। সংস্থাটি নিজস্ব টুলস ব্যবহার করে এরই মধ্যে অন্যান্য দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সন্তোষজনক পর্যায়ে কমিয়ে এনেছে।

যেমন, ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার কমাতে বিশেষ আইনের ক্ষমতাবলে ‘কেএএমসিকো’ নামে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে এডিবি। ওই সময় দেশটিতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

কেএএমসিকো কার্যক্রমের ফলে ২০১৯ সালে দেশটিতে খেলাপি ঋণ কমে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় এডিবি গঠন করেছে ‘ডানাহারলজ’ নামে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ওই সময় মালয়েশিয়ায় খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ শতাংশ।

ডানাহারলজ কাজ শুরুর পর ২০১৯ সালের আগস্টে তা ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ২০০১ সালে স্টেট কাউন্সিলের নির্বাহী আদেশ ২০০০-এর ক্ষমতাবলে এডিবি ‘এফআরএফ’ নামে চীনে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে। ওই সময় চীনে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ১৫ শতাংশ থাকলেও এফআরএফ কাজ শুরুর পর ২০১৮ সালে সেখানে খেলাপি ঋণের হার কমে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে আসে।

আইএমএফের এক প্রতিবেদনে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ২৬ শতাংশ। প্রতিবেদনটিতে দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে ৪৩টি সুপারিশও করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এটা কমাতে না পারলে অর্থনীতি টেকসই হবে না। ইতিপূর্বে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেশের ৩০০ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ঋণখেলাপি হওয়াকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছিলেন।

অর্থমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এডিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে খেলাপি ঋণ হ্রাসসহ ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরাসরি কাজ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×