মেডিকেলের অপূর্ণাঙ্গ জনবল প্রস্তাব: সবকিছু খতিয়ে দেখে পাস করতে হবে
jugantor
মেডিকেলের অপূর্ণাঙ্গ জনবল প্রস্তাব: সবকিছু খতিয়ে দেখে পাস করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল প্রস্তাব করা হয়েছে, অথচ তাতে রাখা হয়নি বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসা বিভাগসহ অনেক জরুরি চিকিৎসার শাখা।

যেমন- শিশু কার্ডিওলজি, নিউরোলজি ও ইউরোলজির মতো শিশু চিকিৎসার লোকবল যেমন রাখা হয়নি, তেমনি নতুন এ প্রস্তাবে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের আওতায় থাকা আইসিইউ বিভাগকে দেখানো হয়েছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সঙ্গে।

ফলে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও আইসিইউ বিভাগ চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে লোকবলের অভাবে। এভাবে আরও নানা অসঙ্গতি রেখে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগ থেকে।

সমস্যার বিষয়, আমাদের দেশে সবসময় সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা ছাড়া পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ নীতিমালা তৈরি করা হয়; কিন্তু পরে দেখা যায়, বিদ্যমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যের মতো অতি জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অসম্পূর্ণ নীতিমালা কাম্য হতে পারে না।

আশার কথা, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের অন্যান্য বিভাগ থেকেও এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আমরা আশা করব, সবদিক বিবেচনা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের বিষয় মাথায় রেখে এখন দরকার না হলেও সামনে দরকার হতে পারে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

কারণ মানসম্মত ও চাহিবামাত্র সেবা পাওয়া এবং দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করার তাগিদ থেকেই কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রস্তাবের গোড়াতে যদি অসঙ্গতি থাকে তবে পরে সংশ্লিষ্টদের তো বটেই, সেবাপ্রার্থীদেরও ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

শিশু নেফ্রোলজি, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি এবং শিশু সার্জারি বিভাগ বহির্বিশ্বে তো বটেই, আমাদেরই ঢাকা মেডিকেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে। আমরা বলছি না, এখনই নতুন প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজে এগুলো রাখা লাগবে; কিন্তু আমাদের দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে এগুলো প্রস্তাবনায় থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এটা সত্য, মেডিকেল কলেজে অনেক সময় অনেক বিভাগের দরকার হবে না। তার মানে এই নয়, পরিকল্পনার শুরুতেই শিশু চিকিৎসার মতো জরুরি অনেক বিষয় বাদ রাখতে হবে।

এছাড়া আইসিইউকে অ্যানেসথেসিয়ার আওতায় না রাখলে প্রয়োজনের সময় লোকবলের অভাবের কথা আসবে, যা আগে থেকেই সমাধান করা দরকার।

কারণ, প্রয়োজনের সময় নীতিমালাই নেই, নীতিমালা সংশোধন করা সময়সাপেক্ষ- এ ধরনের বক্তব্য আমরা অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়ই শুনতে পাই। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যাতে তেমনটি শুনতে না হয় সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।

মেডিকেলের অপূর্ণাঙ্গ জনবল প্রস্তাব: সবকিছু খতিয়ে দেখে পাস করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল প্রস্তাব করা হয়েছে, অথচ তাতে রাখা হয়নি বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসা বিভাগসহ অনেক জরুরি চিকিৎসার শাখা।

যেমন- শিশু কার্ডিওলজি, নিউরোলজি ও ইউরোলজির মতো শিশু চিকিৎসার লোকবল যেমন রাখা হয়নি, তেমনি নতুন এ প্রস্তাবে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের আওতায় থাকা আইসিইউ বিভাগকে দেখানো হয়েছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সঙ্গে।

ফলে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও আইসিইউ বিভাগ চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে লোকবলের অভাবে। এভাবে আরও নানা অসঙ্গতি রেখে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগ থেকে।

সমস্যার বিষয়, আমাদের দেশে সবসময় সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা ছাড়া পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ নীতিমালা তৈরি করা হয়; কিন্তু পরে দেখা যায়, বিদ্যমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যের মতো অতি জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অসম্পূর্ণ নীতিমালা কাম্য হতে পারে না।

আশার কথা, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের অন্যান্য বিভাগ থেকেও এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আমরা আশা করব, সবদিক বিবেচনা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের বিষয় মাথায় রেখে এখন দরকার না হলেও সামনে দরকার হতে পারে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

কারণ মানসম্মত ও চাহিবামাত্র সেবা পাওয়া এবং দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করার তাগিদ থেকেই কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রস্তাবের গোড়াতে যদি অসঙ্গতি থাকে তবে পরে সংশ্লিষ্টদের তো বটেই, সেবাপ্রার্থীদেরও ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

শিশু নেফ্রোলজি, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি এবং শিশু সার্জারি বিভাগ বহির্বিশ্বে তো বটেই, আমাদেরই ঢাকা মেডিকেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে। আমরা বলছি না, এখনই নতুন প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজে এগুলো রাখা লাগবে; কিন্তু আমাদের দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে এগুলো প্রস্তাবনায় থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এটা সত্য, মেডিকেল কলেজে অনেক সময় অনেক বিভাগের দরকার হবে না। তার মানে এই নয়, পরিকল্পনার শুরুতেই শিশু চিকিৎসার মতো জরুরি অনেক বিষয় বাদ রাখতে হবে।

এছাড়া আইসিইউকে অ্যানেসথেসিয়ার আওতায় না রাখলে প্রয়োজনের সময় লোকবলের অভাবের কথা আসবে, যা আগে থেকেই সমাধান করা দরকার।

কারণ, প্রয়োজনের সময় নীতিমালাই নেই, নীতিমালা সংশোধন করা সময়সাপেক্ষ- এ ধরনের বক্তব্য আমরা অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়ই শুনতে পাই। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যাতে তেমনটি শুনতে না হয় সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।