রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতি: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করুন

  সম্পাদকীয় ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প

সরকারি তদন্তে বহুল আলোচিত পাবনার রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র কেনা সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীসহ গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে; যারা মূলত যাচাই-বাছাই ও বিল প্রদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর বাইরে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধেও ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো আমলে নেয়া উচিত।

আশার কথা, মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর পর অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানের জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি, জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে দুদক।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারভুক্ত মেগা প্রকল্প। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ‘গ্রিন সিটি আবাসিক পল্লী’তে গণপূর্ত অধিদফতর বেশকিছু ২০ তলা ও ১৬ তলা ভবন নির্মাণ শুরু করে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর। ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ ৭ হাজার টাকার প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

এরই মধ্যে ঘটেছে ‘বালিশ কাণ্ড’! তবে এ ধরনের দুর্নীতি শুধু রূপপুর পরমাণু প্রকল্পে নয়; বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় ঘটে চলেছে, যার লাগাম টেনে ধরা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুদকের সক্রিয় ভূমিকা কাম্য।

২০১৭ সালের ২৭ জুলাই দুদক হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘এনফোর্সমেন্ট’ অভিযান পরিচালনা শুরু হয়। সে সময় বিআরটিএ, পাসপোর্ট অধিদফতর, বিআরটিসি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), শিক্ষাভবন, বিভিন্ন হাসপাতাল, সিএজি, বিএসটিআই, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানে শিউরে ওঠার মতো দুর্নীতির চিত্র পরিলক্ষিত হওয়ার পর দুর্নীতি রোধে দুদক বিভিন্ন সুপারিশ পেশ করেছিল।

তবে এর ফলে অবস্থার যে কোনো হেরফের হয়নি, এর বড় প্রমাণ রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশ-কাণ্ড। অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে যা দরকার তা হল- দুর্নীতি প্রশ্নে বিন্দুমাত্র নমনীয় না হওয়া। সরকার অবশ্য মাঝেমধ্যে এ ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্সে’র কথা বলে থাকে। তবে তা শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে প্রান্তিক ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দুর্নীতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনে বড় বাধা। দুর্নীতি দেশের উন্নয়নও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×