শিশু নির্যাতন: দ্রুত ও কঠোর সাজার বিকল্প নেই

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু

দেশে শিশু নির্যাতন-নিপীড়ন ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। অন্যদের হাতে তো বটেই, খোদ অভিভাবক-পিতামাতার হাতে নির্যাতন-নিপীড়ন, এমনকি হত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। এই তো সেদিন, বাবা নিজে চেপে ধরে ও চাচা ছুরি চালিয়ে পেট ফুটো করে এবং পুরুষাঙ্গ কেটে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে অভিভাবক তথা বাপ-চাচার কোল, সেখানেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিপ্রায়ে।

এছাড়াও বাবা-মার পরকীয়ার বলি হতে হয় শিশুদের প্রায়ই। এ তো গেল আপনজন-অভিভাবকের হাতে নির্যাতন, নিপীড়ন ও খুনের ঘটনা। এর বাইরে বিভিন্নভাবে ও বিভিন্নজনের হাতে শিশুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিস্থিতি কত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, খোদ প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়েছে কঠোর সাজা হবে শিশু নির্যাতনকারীদের। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারিকে আমলে নিয়ে শিশু নির্যাতন-নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে, দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে তাদের।

কেবল সাম্প্রতিক সময়ে নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই শিশু নির্যাতন-নিপীড়ন মাত্রা ছাড়িয়েছে। পায়ুপথে বাতাস দিয়ে শিশু হত্যা, সিলেটে চুরির অভিযোগে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা, পুরান ঢাকায় নিজ ফ্ল্যাটের ছাদে যৌন নির্যাতন করে শিশু হত্যার ঘটনা এখনও চোখের সামনে ভাসছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার কারণেই বাড়ছে শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন কঠোর সাজা হবে শিশু নির্যাতনকারীদের, তখন বুঝতে হবে যে নিপীড়ন-নির্যাতনকারীদের যথাযথ সাজা ও ভিকটিমের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যদি সেটা করা যেত তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো, তা সহজেই অনুমেয়। বিচারহীনতার এ বাজে সংস্কৃতি থেকে যত দ্রুত বের হওয়া সম্ভব ততই জাতির জন্য তা কল্যাণ বয়ে আনবে।

উদ্বেগের বিষয়, আমরা প্রযুক্তিতে উন্নয়ন করছি ঠিকই; কিন্তু আমাদের মানবিক গুণাবলির কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এমনকি সবাই কেবল বৈষয়িক স্বার্থ ও উন্নতির পেছনেই ছুটছে, মানবিক গুণাবলি অর্জনের কথা কেউ ভাবছে না। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজের সন্তানকে হত্যা, পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় বাবা অথবা মা কর্তৃক নিজের সন্তানকে হত্যার ঘটনা এটাই প্রমাণ যে নিজের স্বার্থে মানুষ যা ইচ্ছা তা করতে পারে। নৈতিক এ অবক্ষয় দূর করে মানবিক গুণাবলি জোরালো করে তুলতে হলে অপরাধীদের সাজা ও আইনের শাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে। এছাড়া ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক বন্ধনের ওপর জোর দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ফলে তাদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। কেবল যে শারীরিক নির্যাতন-নিপীড়ন হচ্ছে তা নয়, শিশুরা প্রচুর পরিমাণে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সেটি হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিকটাত্মীয়দের হাতে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া এবং অভিভাবকদের উচিত শিশুদের প্রতি ভালোভাবে নজর রাখা। প্রধানমন্ত্রী শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমরা চাই না আর কোনো শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হোক। আমরাও তার সঙ্গে একমত হয়ে বলতে চাই, শিশুদের কোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানিই আমরা আর দেখতে চাই না। এ লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতাসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়া হোক অবিলম্বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×