বীমা খাতের সংকট: আস্থাহীনতা দূর করার উদ্যোগ নিন

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বীমা খাতের সংকট
ফাইল ছবি

বিপুল জনসংখ্যা ও দুর্যোগপ্রবণ দেশ- বীমা খাত রমরমা হওয়ার প্রধান দুটি অনুষঙ্গ থাকার পরও আমাদের বীমা খাত কাঙ্ক্ষিত স্তরে যাচ্ছে না। রয়ে গেছে নানা সমস্যা। লাইফ এবং নন-লাইফ বা সাধারণ বীমা কোনোটিই দেশে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বীমার আওতায় থাকা মানুষের এ খাত থেকে প্রবৃদ্ধি পাওয়ার কথা এবং বীমা খাতে কর্মসংস্থানও বাড়ার কথা, সেখানে হচ্ছে তার উল্টো বা হলেও একেবারে ঢিমেতালে।

বর্তমানে মোট জনশক্তির ৮ শতাংশেরও কম মানুষ বীমার আওতায় রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ছয় হাজারের বেশি এবং বীমা খাত থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধির মাত্র শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ আসে। অথচ বীমা খাত থেকে ভারতে প্রবৃদ্ধির ৪ দশমিক ১ শতাংশ, চীনে ৩ শতাংশ, ব্রাজিলে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৭ শতাংশ, জাপানে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ ও হংকংয়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ অবদান আসে প্রবৃদ্ধিতে।

প্রশ্ন হল, আমাদের বীমা খাতের অবস্থা এত নাজুক কেন? কেন প্রবৃদ্ধি এ খাত থেকে অনেক কম আসে? এর জবাবে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হল আস্থাহীনতা। জীবন বীমা বা সাধারণ বীমা কোনোটিই আমাদের দেশে মানুষের তথা গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এর পেছনের কারণগুলো দেখে নেয়া যাক। আস্থাহীনতার কারণ গ্রাহকের বীমাদাবি পূরণে অনীহা, দক্ষ জনবলের অভাব, কোম্পানিগুলোর অপেশাদারি মনোভাব, সার্বিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন ও সময়োপযোগী পণ্য ও সেবা যোগ করতে না পারা এবং প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে থাকা ইত্যাদি। বলার অপেক্ষা রাখে না, গ্রাহকের বীমাদাবি পূরণ ও কোম্পানিগুলোর পেশাদারি মনোভাবের অভাব মূল সমস্যা। আমরা মনে করি, বীমা খাতসংশ্লিষ্টদের উচিত উল্লিখিত সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের পাশাপাশি গ্রাহকের বীমাদাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দিতে হবে।

দেশে যেখানে বিপুল পরিমাণ মানুষ বেকার, সেখানে বীমা খাতে কর্মসংস্থান না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও ভালো কোনো ইঙ্গিত নয়। জানা যায়, ২০১৮ সালে যেখানে বীমা খাতের জনবল ছিল ৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৫ জন, সেখানে পরের বছর তা থেকে ৫ হাজার ৯৬৫ জন কমে যায়। এভাবে নিয়মিত কর্মী কমতে থাকলে খাতটি যে দক্ষ মানবসম্পদের অভাবে আরও বেশি ভুগবে, তা সহজেই অনুমেয়। আমরা মনে করি, সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের উচিত দক্ষ মানবসম্পদ ধরে রাখা ও তা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নেয়া।

মানুষ পকেটের পয়সা জমা দেয় বিপদের সময় বাড়তি অংশসহ ফেরত পাওয়ার জন্য; কিন্তু বীমাদাবি পূরণে কোম্পানিগুলো অনীহা দেখালে এবং সময়মতো টাকা না দিলে নতুন গ্রাহক টানা যাবে না, এটাই স্বাভাবিক। সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে কোম্পানি বা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত বীমা কোম্পানির সাড়া দেয়ার বিকল্প নেই। অন্যদিকে জীবন বীমার ক্ষেত্রে আপনজন হারানো ব্যক্তির দুয়ারে দ্রুত টাকা নিয়ে হাজির হওয়া দরকার বীমা কোম্পানির; কিন্তু সেটা না করে টাকা তুলতে গেলেও যদি ঘোরানো ও টালবাহানা করা হয়, তবে নেতিবাচক প্রভাব তো কোম্পানিকেই বহন করতে হবে। আশার কথা, বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এখন এ খাতের জীবন ও সাধারণ বীমার ৭৮টি কোম্পানির উচিত নিজেদের স্বার্থে দ্রুত এগিয়ে আসা। এত জনসংখ্যা ও দুর্যোগের মধ্যেও মানুষকে বীমামুখী করতে না পারা হবে তাদেরই ব্যর্থতা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×