আইনপ্রণেতার সনদ বাসনা
jugantor
আইনপ্রণেতার সনদ বাসনা
প্রচলিত আইনে তিনি অপরাধী

   

২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আইনপ্রণেতার সনদ বাসনা
এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার সনদ লাভের আশায় নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সংসদ সদস্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ওই সংসদ সদস্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিএ পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষাও তিনি নিজে দেননি; বরং তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অন্যরা (প্রক্সি পরীক্ষার্থী)। তবে বিধিবাম; গত বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য নিয়োজিত এক প্রক্সি পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী এইচএসসি পাস নরসিংদীর এই সংসদ সদস্য উচ্চশিক্ষার সনদ লাভের আশায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ কোর্সে ভর্তি হন। এ পর্যন্ত চারটি সেমিস্টারের ১৩টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অভিযোগ রয়েছে, এর একটিতেও তিনি সশরীরে অংশ নেননি।

উচ্চশিক্ষা লাভের ইচ্ছা এবং বিধিবিধান মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সনদ অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মাঝেমধ্যেই মা ও মেয়ে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অথবা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর উত্তীর্ণ মা-মেয়ের হাস্যোজ্জ্বল ছবি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেখা যায়। যে মা পারিবারিক বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি; পরে তিনি সংসার জীবনে থিতু হয়ে মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন- এতে তার লজ্জার কিছু নেই; বরং বিষয়টি তার জন্য গৌরবের। একইভাবে এইচএসসি পাসের পর সংসদ সদস্য যদি কোনো কারণে পড়াশোনা করতে না পারেন এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ব্রতী হন তাহলে তার এ উদ্যম ও উদ্যোগের প্রশংসা নিঃসন্দেহে সবাই করবেন। আমরাও করতাম, যদি তিনি নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেন, মেধার পরীক্ষায় কৃতকার্য হতেন। শুধু তাই নয়, তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক দল, এমন কী দলমত নির্বিশেষে জাতীয় সংসদের সবাই হয়তো তার এ সাফল্যকে অভিনন্দন জানাতেন।

কিন্তু সনদ লাভের বাসনায় তিনি যে পন্থা অবলম্বন করেছেন, তা শুধু তাকেই কলঙ্কিত করেনি; বরং তার পরিবার ও দলসহ জাতীয় সংসদকেও কলঙ্কিত করেছে। একই সঙ্গে এ অনৈতিক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে প্রচলিত আইনে তিনি অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছেন। নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অবশ্য বলেছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এ সংসদ সদস্যের সব পরীক্ষা বাতিল ও তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা মনে করি, শুধু পরীক্ষা বাতিল বা বহিষ্কার করা নয়; এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের শক্ত ভূমিকা থাকা উচিত। পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গর্হিত অন্যায় করে কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিকতা ও অধিকার সংরক্ষণ করেন কি না, তা সবার ভেবে দেখা উচিত।

আইনপ্রণেতার সনদ বাসনা

প্রচলিত আইনে তিনি অপরাধী
  
২১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আইনপ্রণেতার সনদ বাসনা
এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার সনদ লাভের আশায় নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সংসদ সদস্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ওই সংসদ সদস্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিএ পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষাও তিনি নিজে দেননি; বরং তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অন্যরা (প্রক্সি পরীক্ষার্থী)। তবে বিধিবাম; গত বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য নিয়োজিত এক প্রক্সি পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী এইচএসসি পাস নরসিংদীর এই সংসদ সদস্য উচ্চশিক্ষার সনদ লাভের আশায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ কোর্সে ভর্তি হন। এ পর্যন্ত চারটি সেমিস্টারের ১৩টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অভিযোগ রয়েছে, এর একটিতেও তিনি সশরীরে অংশ নেননি।

উচ্চশিক্ষা লাভের ইচ্ছা এবং বিধিবিধান মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সনদ অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মাঝেমধ্যেই মা ও মেয়ে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অথবা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর উত্তীর্ণ মা-মেয়ের হাস্যোজ্জ্বল ছবি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেখা যায়। যে মা পারিবারিক বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি; পরে তিনি সংসার জীবনে থিতু হয়ে মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন- এতে তার লজ্জার কিছু নেই; বরং বিষয়টি তার জন্য গৌরবের। একইভাবে এইচএসসি পাসের পর সংসদ সদস্য যদি কোনো কারণে পড়াশোনা করতে না পারেন এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ব্রতী হন তাহলে তার এ উদ্যম ও উদ্যোগের প্রশংসা নিঃসন্দেহে সবাই করবেন। আমরাও করতাম, যদি তিনি নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেন, মেধার পরীক্ষায় কৃতকার্য হতেন। শুধু তাই নয়, তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক দল, এমন কী দলমত নির্বিশেষে জাতীয় সংসদের সবাই হয়তো তার এ সাফল্যকে অভিনন্দন জানাতেন।

কিন্তু সনদ লাভের বাসনায় তিনি যে পন্থা অবলম্বন করেছেন, তা শুধু তাকেই কলঙ্কিত করেনি; বরং তার পরিবার ও দলসহ জাতীয় সংসদকেও কলঙ্কিত করেছে। একই সঙ্গে এ অনৈতিক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে প্রচলিত আইনে তিনি অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছেন। নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অবশ্য বলেছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এ সংসদ সদস্যের সব পরীক্ষা বাতিল ও তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা মনে করি, শুধু পরীক্ষা বাতিল বা বহিষ্কার করা নয়; এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের শক্ত ভূমিকা থাকা উচিত। পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গর্হিত অন্যায় করে কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিকতা ও অধিকার সংরক্ষণ করেন কি না, তা সবার ভেবে দেখা উচিত।