জাতীয় যুব দিবস

যুবসমাজ ও উন্নয়ন

  শহিদুল ইসলাম ০১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুব দিবসের ফাইল ছবি
যুব দিবসের ফাইল ছবি

যুবসমাজ হল একটি সমাজের চালিকাশক্তি। বাঙালি বীরের জাতি। আমরা মায়ের ভাষা কেড়ে নেয়ার নাগপাশ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার হাত থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছি। আর এসব কর্মকাণ্ডে সবার আগে প্রাণ দিয়েছে তরুণ ও যুবসমাজ।

সমাজ পরিবর্তনের জন্য চাই গতি, শক্তি ও প্রগতি। যারা পুরনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলে এবং কূপমণ্ডূকতার আশ্রয় নেয়, তাদের দ্বারা সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাঙালি জাতির আছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। আর এ ধারা চলতেই থাকবে। যুবসমাজই এ সংগ্রামের অগ্রনায়ক। আবার এ বয়সে যুবসমাজের বিপথগামিতাও বেশি।

যুবসমাজ আজ অবক্ষয়ের শিকার। যুবকদের একটি অংশ হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানির পথ বেছে নিচ্ছে। বেকার সমস্যা এর একটি বড় কারণ। অনেক যুবকের হাতে কোনো কাজ না থাকায় তারা তাদের সময়কে ভিন্নপথে প্রবাহিত করছে। মানসিক অশান্তি ও হতাশা তাদের প্রাণপ্রদীপ ওষ্ঠাগত করে তুলছে।

কেন তরুণরা বিপথগামী হয় তার জবাব বিভিন্ন চিন্তাবিদ বিভিন্নভাবে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে একটা বিষয় সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য তা হল, মানুষ আরাম-আয়েশপ্রিয় ও প্রবৃত্তির সেবক। তার সহজাত প্রবৃত্তি তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। চার্বাক মতে, ‘যাবৎ জীবং সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্তা ঘৃতং পীবেৎ’।

অর্থাৎ যতদিন বাঁচো সুখে বাঁচো, ঋণ করে হলেও ঘি খাও। মানুষের মনে এ বাণীটি গেঁথে গেছে বলে মনে হয়। কারণ উল্লাস, আনন্দ, সুখ, ভোগ ইত্যাদি জৈবিক প্রবৃত্তি মানুষকে অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। আর যৌবন হল এই অপরাধ সংঘটনের প্রকৃষ্ট সময়। তাই যুবসমাজকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা এখন ভাবার বিষয়। কারণ যুবসমাজের ওপর নির্ভর করছে দেশ। তারা অযোগ্য হয়ে উঠলে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। তাদেরকে বাঁচানোর জন্য দরকার সুস্থ রাজনীতি, সমাজে স্থিতিশীলতা এবং নৈতিক শিক্ষা।

কারণ সমাজ যদি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে এর কিছু অংশ সুস্থ থাকতে পারে না। অসুস্থের সঙ্গে থেকে অসুস্থ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এর প্রতিকারের জন্য দরকার প্রচারমাধ্যমগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা, সুস্থ বিনোদন, ক্রীড়া ও শরীরচর্চা এবং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন।

বর্তমান সরকার যুবসমাজের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- যুব দিবস পালন, যুব মেলার আয়োজন ইত্যাদি। এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতর নিয়ে থাকে ব্যাপক কর্মসূচি।

আমরা আমাদের যুবসমাজকে মেধা-মননে যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই। তারা জাতি গড়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে এসে দেশকে চালিত করবে সঠিক পথে। আর এই পথ থেকে যেন বঞ্চিত না হয় যুবসমাজ, সেজন্য রাষ্ট্র ও বুদ্ধিজীবীদের সজাগ থাকতে হবে।

শহিদুল ইসলাম : প্রাবন্ধিক; শিক্ষক, সরকারি ইস্পাহানী কলেজ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×