দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শতভাগ সফল হোক

  সম্পাদকীয় ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি গত ৫ বছরে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ব্যবসায় লগ্নি করেছেন ও জুয়া খেলেছেন, তাদের শনাক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এ পদক্ষেপ সময়োপযোগী। তবে কেবল সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ব্যবসায় লগ্নি করা ও জুয়া খেলা নয়; প্রতি বছর নানাভাবেই দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে এবং এর হার বাড়ছে।

আইনগতভাবে দেশের বাইরে টাকা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও গত ১৪-১৫ বছরে মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউএই ইত্যাদি দেশে কয়েক হাজার বাংলাদেশি বাড়ি-ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নি করেছেন।

অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা জিএফআইয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা কেন বন্ধ হচ্ছে না, এ নিয়ে ভাবা উচিত।

সরকার গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি অভিযানের সূচনা করেছে। এতে অনেকেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকার নিজ দলের নেতা-কর্মীসহ অন্তত ২২৪ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। জানা গেছে, আটককৃতদের অধিকাংশই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি, ক্যাসিনো পরিচালনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ তথা দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে দেশের বাইরে পাচার করেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে দেশে লুটপাটের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা রাষ্ট্রের মূল ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। দেশে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা প্রতিরোধে সরকারের তরফ থেকে এতদিন কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি।

আশার কথা, সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। আমরা মনে করি, অর্থ পাচারসহ সব ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে উচ্চপর্যায় থেকে। কাজেই চুনোপুঁটিদের পাশাপাশি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা হলেই এ অভিযানে সুফল পাওয়া যাবে।

তবে শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে জনমত তৈরি ও জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। সমাজে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ নিষ্ঠাবান নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে সততা সংঘ গড়ে তোলা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যদি দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে অবহিত হয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তবে সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×