পেঁয়াজের ঝাঁজ আর কত?
jugantor
পেঁয়াজের ঝাঁজ আর কত?

  নির্মল সরকার  

০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব বাণিজ্যনীতিতে আমদানি ও রফতানি পরস্পরের পরিপূরক। কৃষিক্ষেত্রে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে ধাবমান থাকলেও কখনও কখনও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা প্রথম সারিতে। পেঁয়াজ নিয়ে কমবেশি প্রতি বছরই কোনো না কোনো উত্তাপের আঁচ সাধারণ মানুষসহ সরকারের গা ছুঁয়ে যায়। উৎপাদিত পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়ে কৃষক যেমন খুশি হয়, তেমনি আবার কখনও দাম না পেয়ে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসা পেঁয়াজ ফেলে দিয়ে চলে যায়।

আগাম জাতের পেঁয়াজ ও মৌসুমের প্রথম দিকে তোলা পেঁয়াজের বাজারদর ওঠানামা ক্ষণস্থায়ী ও স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের বাজার ওঠানামা সব পণ্যের ক্ষেত্রে হতে পারে বা হয়ে থাকে। গত মৌসুমের প্রথম পাঁচ মাস উৎপাদিত পেঁয়াজের বাজারমূল্য প্রায় স্থবির ছিল। আগষ্ট মাসের শেষের দিকে পেঁয়াজের বাজারমূল্য গতিশীল হয়, ধীরে ধীরে এর দাম বাড়তে থাকে। দামের পারদ যখন উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন কৃষকের ঘরে পেঁয়াজের মাচা খালি। পেঁয়াজের মূল্য আরও গতি পায় ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায়।

সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা দিলে বাজারে এর দাম কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু এ অবস্থা ছিল ক্ষণস্থায়ী। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বুঝে যায় টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি মরুভূমিতে একবিন্দু জলের মতো। প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে আগাম জাতের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে চাষী উৎপাদন করে পণ্য আর মুনাফা চুষে নেয় একশ্রেণির ব্যবসায়ী, যারা অত্যন্ত সংগঠিত, যাদের দেশ বা জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

মিয়ানমার ও মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ এবং দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ মিলে প্রকৃতপক্ষে বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তবে পেঁয়াজের বাজারমূল্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়। তবে কি সিন্ডিকেটের ওপরই নির্ভর করবে পেঁয়াজের দাম? এ সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে জনসাধারণ তো দূরের কথা, খোদ সরকারকেই এদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। পেঁয়াজে সিন্ডিকেট, চামড়ায় সিন্ডিকেট, শেয়ারবাজারে সিন্ডিকেট, মাদকে সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজিতে সিন্ডিকেট, মানুষ পাচারে সিন্ডিকেট, পরিবহনে সিন্ডিকেট- সর্বত্র যেন সিন্ডিকেটের জয়জয়কার!

শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে শর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানো যায় না। যারা সরকারের ছত্রছায়ায় গডফাদার হয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। এদের বিচারের আওতায় নিতে হবে। সরকারের ও ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়া থেকে এদের বের করে দিতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নির্মল সরকার : মানবাধিকার কর্মী

[email protected]

পেঁয়াজের ঝাঁজ আর কত?

 নির্মল সরকার 
০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব বাণিজ্যনীতিতে আমদানি ও রফতানি পরস্পরের পরিপূরক। কৃষিক্ষেত্রে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে ধাবমান থাকলেও কখনও কখনও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা প্রথম সারিতে। পেঁয়াজ নিয়ে কমবেশি প্রতি বছরই কোনো না কোনো উত্তাপের আঁচ সাধারণ মানুষসহ সরকারের গা ছুঁয়ে যায়। উৎপাদিত পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়ে কৃষক যেমন খুশি হয়, তেমনি আবার কখনও দাম না পেয়ে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসা পেঁয়াজ ফেলে দিয়ে চলে যায়।

আগাম জাতের পেঁয়াজ ও মৌসুমের প্রথম দিকে তোলা পেঁয়াজের বাজারদর ওঠানামা ক্ষণস্থায়ী ও স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের বাজার ওঠানামা সব পণ্যের ক্ষেত্রে হতে পারে বা হয়ে থাকে। গত মৌসুমের প্রথম পাঁচ মাস উৎপাদিত পেঁয়াজের বাজারমূল্য প্রায় স্থবির ছিল। আগষ্ট মাসের শেষের দিকে পেঁয়াজের বাজারমূল্য গতিশীল হয়, ধীরে ধীরে এর দাম বাড়তে থাকে। দামের পারদ যখন উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন কৃষকের ঘরে পেঁয়াজের মাচা খালি। পেঁয়াজের মূল্য আরও গতি পায় ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায়।

সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা দিলে বাজারে এর দাম কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু এ অবস্থা ছিল ক্ষণস্থায়ী। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বুঝে যায় টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি মরুভূমিতে একবিন্দু জলের মতো। প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে আগাম জাতের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে চাষী উৎপাদন করে পণ্য আর মুনাফা চুষে নেয় একশ্রেণির ব্যবসায়ী, যারা অত্যন্ত সংগঠিত, যাদের দেশ বা জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

মিয়ানমার ও মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ এবং দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ মিলে প্রকৃতপক্ষে বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তবে পেঁয়াজের বাজারমূল্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়। তবে কি সিন্ডিকেটের ওপরই নির্ভর করবে পেঁয়াজের দাম? এ সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে জনসাধারণ তো দূরের কথা, খোদ সরকারকেই এদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। পেঁয়াজে সিন্ডিকেট, চামড়ায় সিন্ডিকেট, শেয়ারবাজারে সিন্ডিকেট, মাদকে সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজিতে সিন্ডিকেট, মানুষ পাচারে সিন্ডিকেট, পরিবহনে সিন্ডিকেট- সর্বত্র যেন সিন্ডিকেটের জয়জয়কার!

শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে শর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানো যায় না। যারা সরকারের ছত্রছায়ায় গডফাদার হয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। এদের বিচারের আওতায় নিতে হবে। সরকারের ও ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়া থেকে এদের বের করে দিতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নির্মল সরকার : মানবাধিকার কর্মী

[email protected]