পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দাম: স্থায়ী সমাধান কাম্য

  সম্পাদকীয় ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দাম

সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি পেঁয়াজের কেজিও ভারত, মিয়ানমার ও মিসরের দেশভেদে ১৪০, ১৩০ ও ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারের সঙ্গে অবশ্য খুচরা দরের তেমন পার্থক্য নেই। পুরান ঢাকার পাইকারি মার্কেট শ্যামবাজারে শনিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৩৫, ভারতীয় ১৩৫ ও মিসরীয়টা ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি এক সপ্তাহে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা প্রতিদিনের হিসাবে গড়ে পৌনে ৬ টাকা। অবশ্য সর্বশেষ পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের বাজারে এ অস্থির অবস্থা চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে- ভারতের কর্নাটকের নির্বাচনকে সামনে রেখে ও উৎপাদন সমস্যার কথা বলে রফতানি সাময়িক বন্ধ করার পর থেকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তুরস্ক, মিসর ও মিয়ানমারসহ বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়নি। এর পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি কাজ করেছে, নাকি অন্য কোনো বিষয় তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিকল্প বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করা সমস্যার কোনো বিষয় নয়। যে কোনো দেশ থেকেই চাইলে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য আমদানি করে তা সরবরাহ করা যায়। অথচ দীর্ঘদিন থেকে তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আসছে শোনা গেলেও কেন তাতে এত দেরি লাগছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটা সত্য, প্রতিবেশী দেশ থেকে স্বল্পসময় ও কম পরিবহন খরচে আমদানি করা যায়। কিন্তু সবাই তো সবসময় পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন কারণে কৃষি পণ্যের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তো স্বাভাবিক বিষয়। ফলে সবসময় বিকল্প বাজার থেকে পণ্য আমদানির প্রস্তুতি থাকতে হবে। এছাড়া একজন ব্যবসায়ীর কাজই তো যে কোনো বিকল্প বাজার থেকে পণ্য সরবরাহ করে ব্যবসা করা। কিন্তু আমাদের আমদানিকারকরা সংকটের মুহূর্তেও কেন তুরস্ক, মিসরসহ অন্যান্য বাজারমুখী না, তা রহস্যজনকই বলতে হবে। এর বাইরে আছে নিকটতম প্রতিবেশী মিয়ানমার। কিন্তু দেশটির সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে লেনদেন স্বাভাবিক নয়। ফলে মিয়ানমার থেকে এলসি খুলে বড় ধরনের চালানের পরিবর্তে সীমান্ত বাণিজ্যে নগদ ডলারে কম আমদানি করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় এলসির মাধ্যমে আমদানি সহজ করার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে সরকার টু সরকার পর্যায়ে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা দরকার।

আমাদের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন, যার মধ্যে উৎপাদন হয় ১৪ থেকে ১৫ বা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৬ লাখ টন। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাকি ৮ লাখ টন উৎপাদন বৃদ্ধি করে চাহিদার জোগান দেয়া বা আরও বেশি উৎপাদন করে রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়া দরকার। কারণ আমদানিনির্ভরতা মানুষকে বিপদে ফেলে, এমনকি রফতানিকারক দেশগুলো অনেক সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে আগের এলসি খোলা পণ্যও পাঠায় না। এটি বাণিজ্যনীতির বিরোধী হলেও এবারও পেঁয়াজ রফতানির ক্ষেত্রে ভারত সেটি করেছে। ফলে আমাদের উচিত পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। এছাড়া পেঁয়াজের বিকল্প দিয়ে রান্না করা বা সাময়িকভাবে পেঁয়াজ কম ব্যবহার করাও হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতের নিষেধাজ্ঞার পর গরু উৎপাদনে যেভাবে সফল হওয়া সম্ভব হয়েছে, পেঁয়াজ উৎপাদনেও সে সক্ষমতা দেখাতে না পারার কোনো কারণ তো নেই। প্রয়োজন সচেতনতা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×