প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়বৃদ্ধি: এভাবে চলতে পারে না

  সম্পাদকীয় ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়বৃদ্ধি: এভাবে চলতে পারে না
নির্মাণাধীন প্রকল্প পদ্মা সেতু। ফাইল ছবি

দেশের ৫ মেগা প্রকল্প- পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রজেক্ট, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ এবং দোহাজারী-রামু-ঘুমদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ নির্ধারিত ব্যয় ও সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার সংবাদ উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, ৫ প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫৮ হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, বর্তমানে যা বেড়ে ১ লাখ ৮২৪ কোটি টাকা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিটি প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে ব্যয় যেমন কমে, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। দুর্ভাগ্যজনক হল, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যারা যাচাই করেন, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণের বিষয়ে দক্ষ হন না। তাছাড়া সঠিকভাবে ব্যয় নির্ধারণও করতে পারেন না। এর বাইরে অবশ্য নানা ধরনের কারসাজি থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দেখা যায়, অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পূর্বে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর অধিকাংশ এখনও বহাল রয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু বাধা চিহ্নিত করেছে। এগুলোর মধ্যে কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজের ধীরগতি, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই কার্যক্রম চালু রাখা, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা, পরামর্শক সংস্থার ওপর অতিমাত্রায় নিভর্রশীলতা ইত্যাদি। জরুরি ভিত্তিতে এসব সমস্যা নিরসন করা না হলে বছরের পর বছর ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের চিত্র প্রতিভাত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

দুঃখজনক হল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও সরকারের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে প্রকল্প অনুমোদনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেটি মানা হয় না। এটি নিঃসন্দেহে একটি খারাপ প্রবণতা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর তা নির্দিষ্ট মেয়াদকালে শেষ করা না গেলে রাষ্ট্র কেবল আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তই হয় না; বরং দাতা সংস্থাগুলোর অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের সঙ্গেও ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ তৈরি হয়, যা অনভিপ্রেত। সরকার এ ব্যাপারে সজাগ ভূমিকা পালন করে প্রতিটি প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×