চাপের মুখে সামষ্টিক অর্থনীতি: সিপিডির মূল্যায়ন আমলে নিন

  ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১০ বছরের মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এ মূল্যায়ন করেছে।

এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- রাজনৈতিক অর্থনীতির দুষ্ট চক্রে আটকা পড়েছে দেশ। ব্যাংক ঋণের টাকা ফেরত না দেয়া. কর ফাঁকি, বিদেশে অর্থ পাচার, পুঁজিবাজারের টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি- এসব হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির সংস্কৃতি। এ কারণে প্রায় সব খাতেই ঘাটতি বিরাজ করছে।

সিপিডির এ মূল্যায়ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কেবলই বাড়ছে। বাড়ছে অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা। সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থা দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজারে।

জানা যায়, গত সাত মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজারমূলধন কমেছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোনো কোনো কোম্পানির ৫০ টাকার শেয়ার ২ টাকায় নেমে এসেছে।

দেশের অর্থনীতির জন্য এগুলো মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এসব ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আর্থিক খাতে সংস্কার ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলছে শুদ্ধি অভিযান। বিভিন্ন ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনাকারী কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে সন্দেহভাজনদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে আশা জেগেছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে সরকার। বিশেষ করে আর্থিক খাতে দুর্নীতি দমন করা অত্যন্ত জরুরি। এ খাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির একটি বড় কারণ দুর্নীতির মূল হোতাদের বিচার না হওয়া। বস্তুত তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

এর ফলে শুধু ব্যাংকিং খাতের ভিতই দুর্বল হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ। কাজেই শুদ্ধি অভিযানকে ফলপ্রসূ করতে হলে আর্থিক খাতে জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এ খাতে দুর্নীতি বন্ধ হলে ব্যংকগুলোয় খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে, বন্ধ হবে ভুয়া এলসি খুলে অর্থ পাচার, প্রতিরোধ হবে পুঁজিবাজারে দুষ্ট চক্রের কার্যক্রম।

সরকার ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু গোটা আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ না হলে এ অভিযান কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ ব্যাপারে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

তিনি বলেছেন, ‘কর ফাঁকি, ব্যাংক ঋণ, বিদেশে পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ মাধ্যম এই টাকার উৎস। এই উৎস বন্ধ না করলে ক্যাসিনো বন্ধ হবে না।’ আমরা মনে করি, দেশের আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে এ খাতের রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

সিপিডি যে ‘রাজনৈতিক অর্থনীতির দুষ্ট চক্রের’ কথা বলেছে, সেই দুষ্ট চক্র থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে দ্রুত। এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত