ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা

ব্যাংকিং খাতে সংকট আরও বাড়বে

  সম্পাদকীয় ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা

দেশের ব্যাংকিং খাতকে বাঁচাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা যখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, তখন লক্ষ করা যাচ্ছে, বিভিন্ন নীতি-সহায়তার নামে ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

যেমন, ভালো গ্রাহকদের শিল্পঋণের সুদের হার যেখানে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ এবং তা নেয়া হচ্ছে চক্রবৃদ্ধি হারে, সেখানে ঋণখেলাপিদের সুদের হার ৯ শতাংশ। খেলাপিরা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পরিশোধে সুবিধা হিসেবে পাচ্ছেন আরও ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড।

সেই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা। আমরা মনে করি, এর মধ্য দিয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে ঋণখেলাপিদের, আর বঞ্চিত করা হচ্ছে ব্যাংকের ভালো গ্রাহকদের। যারা ব্যাংকের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন, তাদের দেয়া হচ্ছে না কোনো সুবিধা।

এ দ্বৈতনীতি দেশে বিনিয়োগের জন্য ক্ষতিকর, ক্ষতিকর সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা দেখে ভালো গ্রাহকরাও এখন খেলাপি হতে উদ্বুদ্ধ হবেন। তাতে সংকট আরও বাড়বে।

প্রশ্ন হল, ঋণখেলাপিদের জন্য কেন এত ছাড়? এর পেছনে কাদের স্বার্থ জড়িত? আমরা মনে করি, জনগণের টাকা নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার ব্যবস্থা করা অনৈতিক। ছাড় দিতে দিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকায়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতিই নির্দেশ করে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাত খেলাপিনির্ভর হয়ে পড়বে।

অথচ খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ যে জরুরি তা অনুধাবন করে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা, এ টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি যে ব্যাংক থেকেই ঋণ নেয়া হোক না কেন, ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে তিনি কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।

অবলোপন করা ঋণ পর্যালোচনা করতে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার কথাও বলেছিলেন তিনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন ও কী কারণে ঋণখেলাপি হয়েছে এবং তা কেন অবলোপন করা হয়েছে এবং এর পেছনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে এ কমিটি।

আমাদের প্রশ্ন, অর্থমন্ত্রীর এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়? এর পরিবর্তে আমরা বরং দেখছি ব্যাংকিং খাতে সব নীতি নেয়া হচ্ছে মূলত ঋণখেলাপিদের অনুকূলে! এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন ভালো ঋণগ্রহীতারা। এটি দুর্ভাগ্যজনক।

বিগত সময়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালীরা ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপন ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত থেকেছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি, বরং তাতে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও প্রলম্বিত হয়েছে। ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্যাংকিং খাত।

এ খাত তথা সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে এমন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি, যার মাধ্যমে ভালো গ্রাহকরা হবেন পুরস্কৃত এবং খারাপ গ্রাহক তথা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা হবেন তিরস্কৃত ও দণ্ডিত। আমরা এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×