কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে দুর্নীতি: সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হোক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো বা সিএমএসডি) প্রায় ২৬ কোটি টাকা ‘নয়ছয়’ করার প্রমাণ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি।

জানা যায়, সিএমএসডি কর্তৃক বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত লোকাল এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ঔষধনীতি উপেক্ষা করে বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কেনার কারণে ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকারও বেশি।

এসব অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার। তা না হলে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে ক্রয়ে দুর্নীতির খবর প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। কিছুদিন আগে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা ক্রয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

এছাড়া আরেকটি সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয় প্রস্তাবে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের যে মূল্য ধরা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তেমন অবগত নন।

কিন্তু বালিশ ও অন্য যেসব পণ্যের দাম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অবগত, সেগুলোর ক্রয় প্রস্তাবে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করা হলে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের খবর বারবার প্রকাশ হওয়ায় জনমনে এমন একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, সরকারি হাসপাতালের ক্রয় মানেই যেন দুর্নীতি।

বস্তুত সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রয়ে দুর্নীতি ও অপচয় এতটাই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় ক্রয়সংক্রান্ত সব ধরনের কমিটিতে কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নানা রকম পদক্ষেপ নেয়ার পরও কেন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দুর্নীতি কমছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সংসদীয় কমিটি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে দুর্নীতির যে প্রমাণ পেয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য।