ট্রাফিক আইন মেনে চলুন

  মোস্তফা রনি ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাফিক আইন মেনে চলুন

ট্রাফিক আইন কিংবা পুলিশের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই রাজধানীতে অধিকাংশ পথচারী চলেন নিজের মতো।

এতে করে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। অসচেতন পথচারী হচ্ছেন পঙ্গু, আবার কাউকে অকালেই বিদায় নিতে হচ্ছে পৃথিবী থেকে।

দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে প্রায় একশ’ ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করেছে। অথচ এগুলো ব্যবহার করছেন না অসচেতন নগরবাসী। ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও আন্ডারপাস ছাড়া রাস্তা পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ। ক্লান্ত পথচারী, প্রবীণ, শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী, রোগী ও মালামাল বহনকারীদের পক্ষে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া কঠিন।

তাদের সুবিধার জন্য জেব্রা ক্রসিং এবং চলন্ত সিঁড়ি তৈরি করা হলেও তা ব্যবহার করেন না অধিকাংশ পথচারী। অনেক সময় দেখা যায় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করেই মা তার বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এভাবে তিনি নিজেই শেখাচ্ছেন আইন ভাঙার নিয়ম। অন্যদিকে বেশকিছু ফুটওভার ব্রিজ দখল করে রাখে হকার, ভিক্ষুক কিংবা মাদকসেবীরা। এ কারণেও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চান না পথচারীরা। কাজেই শুধু পথচারীদের দোষ দিলেই হবে না, এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৩০৪বি ধারায় যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

একইসঙ্গে এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া নতুন আইনে বেপরোয়া যানবাহন পরিচালনার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান তিন বছর কারাদণ্ড। নতুন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানার পরিমাণও বাড়বে। এ আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা। যেমন ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও আন্ডারপাস ব্যবহার করা। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় রাস্তা পার না হওয়া এবং সিগন্যাল ছেড়ে দেয়ার পর রাস্তা পার না হওয়া।

তবে মানুষের অভ্যাস সহজে বদলায় না। এজন্য শুধু পুলিশকে তৎপর হলেই হবে না, পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, সরকারি-বেসরকারি এনজিও ও বিআরটিএসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে জনগণকে সচেতন করতে এবং নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে রাজধানীর সর্বত্র সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো উচিত।

রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে, পরিবহনে চলাচলের সময় যাত্রীদের হাত-মাথা বাইরে না নিতে, ঝুঁকি নিয়ে ও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে পরিবহনে না উঠতে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়া উচিত। পরিবহনে হয়রানির ক্ষেত্রে জাতীয় হেল্প নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশের সহায়তা নিতেও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কমাতে। আসুন, সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলি, নিজের জীবন রক্ষা করি।

মোস্তফা রনি : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×