ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনিয়ম

শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনা দরকার

  সম্পাদকীয় ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

সরকারের সিভিল অডিট অধিদফতরের বিশেষ নিরীক্ষা দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গত ১০ বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

বিষয়টি উদ্বেগজনক। অনিয়মকৃত টাকার অঙ্কটি বিশাল। এ অনিয়মের কারণে সরকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৩৭২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭ টাকা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে ৫১৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯৮ টাকা।

এসব অনিয়ম হয়েছে মোট ১৩৪টি খাতে। উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গত ১০ বছরে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও পদোন্নতি, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ফেরত না দিয়ে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন, কেনাকাটায় অনিয়ম, অনুমোদন ছাড়া পেনশন ফান্ডে টাকা স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি এই বিশেষ নিরীক্ষা দল গঠন করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বর্তমান মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের মেয়াদকালে এসব অনিয়ম ঘটায় এর দায় প্রথমত তার ওপরই বর্তায়। জানা যায়, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অনুসন্ধানে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকায় তার নাম এসেছে। তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ দুর্নীতির ব্যাপারে আরও ব্যাপক তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে নানাভাবেই দুর্নীতি হচ্ছে। এর মধ্যে নিয়োগ-পদোন্নতি ও কেনাকাটায় দুর্নীতি যেন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বস্তুত নিয়োগ বাণিজ্য এখন ওপেন-সিক্রেট বলা যায়। ব্যাংকিং সেক্টরেও হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সক্রিয় ভূমিকা কাম্য। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমনে দুদকের বেশ তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।

বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। তবে আমরা মনে করি, এককভাবে দুদকের পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা যাবে না, কিছুটা প্রতিরোধ করা যাবে হয়তো। বস্তুত দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সর্বদিকবিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। রাজনীতিতে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনা এসব পদক্ষেপের একটি।

রাজনীতিতে ন্যায়-নীতি, আদর্শ না থাকলে সাধারণ মানুষও আদর্শহীন হয়ে পড়তে পারে। লক্ষ করা যায়, ক্ষমতাসীন অথবা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই দুর্নীতিতে জড়ায় বেশি, কারণ দুর্নীতি করার সুযোগ বেশি থাকে তাদের। কাজেই দুর্নীতির ব্যাপারে সরকারের থাকতে হবে কঠোর মনোভাব। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠামাত্রই তার তদন্ত করে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে হবে।

দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্প্রতি শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদেরও বাদ দেয়া হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে আশা জেগেছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

সরকার দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে- এর অর্থ হল দুর্নীতি যে হচ্ছে, তা স্বীকার করে নেয়া। এখন আন্তরিকভাবে এ অভিযান চালিয়ে গেলে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে, আশা করা যায়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এবং দুদককে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সুফল আসবে অবশ্যই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×