রাফি হত্যার বিচার দৃষ্টান্ত হোক

  সিয়াম আহমেদ ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

ফেনীর সোনাগাছী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার অপরাধে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি মডেল হয়ে থাকবে। বহুল আলোচিত এ মামলার চার্জশিট দাখিলের মাত্র ৬১ কর্মদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মানদণ্ডে এটি একটি দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে।

এই মামলার রায় প্রমাণ করেছে, অপরাধী যতই সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী হোক না কেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যে কোনো মামলার বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সম্ভব।

রাফি হত্যা মামলার রায় অপরাধীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে। এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির কাউকে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার আগে শতবার ভাবতে বাধ্য করবে।

এছাড়া এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি হবে। ফলে ভবিষ্যতে কেউ এমন কোনো নির্যাতনের শিকার হলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে সাহসী হবে।

দেশে নারী নির্যাতন ও নির্যাতন-পরবর্তী হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ খুব একটা জোরালো নয়। কেন জানি আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে এক অদৃশ্য বাধা অনুভব করি। শ্লীলতাহানির অনেক অভিযান আইনের দরজা পর্যন্তও পৌঁছায় না, সুষ্ঠু বিচার তো সুদূর পরাহত।

দেশে গত কয়েক বছরের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের অপরাধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বখাটে ছেলেরা জড়িত। ফলে শুধু শ্লীলতাহানি কিংবা ধর্ষণই নয়, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আবার প্রথমদিকে মামলা করা হলেও একপর্যায়ে প্রভাবশালীরা চাপ ও ভীতি প্রদর্শন করে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে। তখন আর কিছুই করার থাকে না।

ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় বাধা হল বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা। দেখা যায়, এর সুযোগ নিয়ে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে আসামী অভিযোগকারীকে আরও বেশি উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচারের আশা ছেড়ে দেয়।

গণমাধ্যমে এমন খবরও দেখেছি, ধর্ষণের পর থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে সেখানেও লাঞ্ছিত হয়েছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। এটা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের অসহযোগিতা যে কোনো অপরাধ বিস্তারের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা লোপ করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে শিক্ষককে প্রধান করে ইভটিজিং ও যৌন নির্যাতন দমন সেল গঠন করতে হবে।

সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে বেশকিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে ১০৯ নম্বরে ডায়াল করে যে কোনো সময় সহায়তা পাওয়া যাবে। আর এই সেবাটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

এছাড়া ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯ তো রয়েছেই। এখান থেকেও সার্বক্ষণিকভাবে যে কোনো পুলিশি সেবা পাওয়া যাবে। এসবের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে প্রতিটি পরিবারে শিশুদেরকে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে সচেতন ও সোচ্চার করে গড়ে তুলতে হবে।

সিয়াম আহমেদ : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×