খেলাপি ঋণ অবলোপনের বায়না: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি মামাবাড়ি?

  সম্পাদকীয় ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদের বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও শর্তসাপেক্ষে খেলাপি ঋণ অবলোপনে কিছুটা ছাড় দেয়ার আভাস দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবলোপন নীতিমালা অনুসারে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে কমপক্ষে তিন বছর আদায়ের চেষ্টা করতে হয়; অর্থাৎ যে কোনো খেলাপি ঋণ অন্তত তিন বছর হিসাবে দেখাতে ব্যাংকগুলো বাধ্য।

এখন ব্যাংকগুলো দাবি করেছে খেলাপি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অবলোপন করার। আমরা জানি, নানারকম ছাড় ও সুবিধা দিয়েও আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না ঋণের টাকা। এ অবস্থায় আদায় না করেই খাতা-কলমে খেলাপি ঋণ কমানোর ‘বায়না’ কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা দরকার। ‘মামাবাড়ির আবদার’ বলে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে। জনগণের অর্থে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চাইলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ ধরনের আবদার করতে পারে কি না, এটাও ভেবে দেখতে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের চাওয়া অনুযায়ী ‘খেলাপির খাতা’ মুছে অবলোপন করার সুযোগ দেয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। বস্তত এটি খেলাপি ঋণের পুরো তথ্য গোপন করার ফন্দি, যা কখনোই কার্যকর হওয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন হল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিচ্ছেন, সেখানে এ ধরনের প্রস্তাব আসে কীভাবে? মনে হচ্ছে ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের জন্য একটি চক্র মাঠে নেমেছে। মূলত ওই চক্রটিই একেক সময় একেক প্রস্তাব নিয়ে আসছে এবং আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করছি, সেসব প্রস্তাব কার্যকরও করা হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, ‘বায়না’ মেনে নিয়ে খেলাপি ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করা হলে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কমবে বটে; তবে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত, যা মোটেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ অবলোপন করা হয়েছে ৪০ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়- ঋণ একবার অবলোপন করা হলে তা আদায়ের খুব বেশি চেষ্টা করা হয় না; ফলে ঋণ আদায়ও হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে এ বছরের জুন পর্যন্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে কুঋণ আছে ৯৭ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা; প্রস্তাবিত নীতিমালা কার্যকর হলে যা দাঁড়াবে মাত্র ১৪ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকায়।

বছরের যে কোনো সময় অবলোপনের সুযোগ পেলে কুঋণের পুরো অর্থ হিসাব থেকে বাদ দেয়া যাবে বলেই এমন একটি অন্যায় আবদার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিরা, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা শুভ হবে না এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারের কাজটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। কাজেই ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের নাগপাশ ছিন্ন করা জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×