আবরার হত্যার বিচার প্রক্রিয়া

চার্জশিটের মতো বিচারও দ্রুত হোক

  সম্পাদকীয় ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয়া হয়েছে এই চার্জশিট। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২৫ জনের মধ্যে ১১ জন সরাসরি অংশ নিয়েছিল হত্যাকাণ্ডে। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ও অন্যভাবে সম্পৃক্ততার কারণে বাকি ১৪ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত ছিল এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে আশ্রয় করে অছাত্রের মতো আচরণ করত। আবরার হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ জন পলাতক রয়েছে, বাকি ২১ জন রয়েছে কারাগারে।

এদের মধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ৮ জন, বাকি ১৩ জনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি ধারণ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। চার্জশিটে ২১টি আলামত ও ৮টি জব্দ তালিকা যুক্ত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিককালে যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি ও বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ড বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বুয়েটের ছাত্র হওয়ায় এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে, আবরার ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র।

তিনি কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং স্বভাবে ছিলেন অতিশয় ভদ্র। অথচ তাকেই তার সতীর্থরা রাতভর পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের প্রায় সবাই যুক্ত ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে।

আবরার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র দেশবাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ছিল কল্পনারও অতীত। বুয়েটের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু ছাত্র এতটা বর্বর ও বীভৎস হয়ে উঠতে পারে, তা ভাবাও যায় না।

খবরটি পাওয়ামাত্র সবাই শিউরে উঠেছিলেন। তবে সুখবর এই যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের একটি বড় অংশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হলেও তাদের প্রতি ন্যূনতম অনুকম্পা দেখানো হয়নি। খোদ প্রধানমন্ত্রী দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৭ দিনের মাথায় এবং এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৩১ জনকে। দ্রুততার সঙ্গে মামলার চার্জশিট দেয়ায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

আমরা এর আগে দেখেছি, রাফি হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামিদের সবাইকে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। আবরার হত্যা মামলারও বিচার রাফি হত্যার মতো দ্রুততম সময়ে শেষ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব থাকবে না বলেও বিশ্বাস করতে চাই আমরা। বস্তুত আবরার হত্যা মামলার সঙ্গে দেশের বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তির একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

দেশবাসী দেখতে চায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের হত্যাকারীরা কী ধরনের শাস্তি পায়। একইসঙ্গে আমরা বলতে চাই, শুধু রাফি অথবা আবরার হত্যা নয়, দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যারই যেন সুষ্ঠু বিচার হয় এবং তা যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে।

আমরা মনে করি, হত্যাকাণ্ড, বিশেষত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তা সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×