অনিয়ম-অবহেলায় অরক্ষিত রেল

  মো. সজিবুর রহমান সজীব ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনিয়ম-অবহেলায় অরক্ষিত রেল

সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী পরিবহন হল ট্রেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ট্রেনে চলাচল করে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ দেশে রেলযাত্রা কতটা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক? ট্রেনে যাত্রীর তুলনায় বগির সংখ্যা অপর্যাপ্ত।

বগি সংকটের কারণে যাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য সেবা থেকে। অপরদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগে গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। সব মিলিয়ে রেলওয়ের সেবার মানের দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

জানা যায়, সারা দেশে ২ হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার লাইনই ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে স্টেশনে টিকিট বিক্রিতে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ আছে, টিকিট ছাড়া টাকা আদায় করে রেল কর্মকতা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ট্রেনের টিকিট চেকাররা সাধারণ যাত্রীদের টিকিট না দিয়ে ডকুমেন্ট ছাড়াই ইচ্ছামতো টাকা আদায় করেন। আর বিপুল অঙ্কের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কতিপয় অসাধু কর্মকতা তা পকেটস্থ করেন। এছাড়া ভিআইপি ও বিভিন্ন কোটায় ট্রেনের টিকিট সংরক্ষণ রাখা হয় প্রায় ৩৮ শতাংশ। ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে চড়া দামে তা বিক্রি করেন বুকিং ক্লার্ক থেকে শুরু করে রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এর ফলে সৃষ্টি হয় টিকিট সংকট।

আমরা কথায় কথায় নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ বলছি। অথচ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেলব্যবস্থার উন্নতি করতে পারছি না। এটা খুবই পরিতাপের বিষয়। সরকার সড়ক পথকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে এর উন্নয়ন করছে, রেল খাতের উন্নয়নে সেভাবে মনোযোগ দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।

সরকার এ খাতের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও তার ছোঁয়া এ খাতে না লেগে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজের উন্নতি হচ্ছে। শর্ষের ভেতর ভূত থাকলে সেই খাতের উন্নয়ন হয় না। এ ভূত তাড়াতে সরকারের কঠোর অবস্থান নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

অর্থ বরাদ্দ হবে অথচ সেই অর্থের সদ্ব্যবহার হবে না, তা চলতে দেয়া যায় না। রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক, সহকারী, পয়েন্টম্যান, গেটম্যান, স্টেশন মাস্টার নিয়োগসহ মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে রেলওয়েকে নিরাপদ ও জনবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

পাশাপাশি এ খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি দূর করে সামগ্রিক সংস্কার ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হোক।

মো. সজিবুর রহমান সজীব : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×