বেবিচকের দুর্নীতি: প্রকল্প পরিচালককে আইনের আওতায় আনতে হবে
jugantor
বেবিচকের দুর্নীতি: প্রকল্প পরিচালককে আইনের আওতায় আনতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আওতা বাড়ছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের এক বড় দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্পের অন্তত ১০০ কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে সরকারের।

এই দুর্নীতির হোতা হলেন প্রকল্পটির পরিচালক স্বয়ং। জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের টাকা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কোষাগারে জমা দেননি। নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দেয়ার কারণে তা বেড়ে গিয়ে ১০০ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের উদাসীনতা, গাফিলতি, অদক্ষতা, দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণে সরকারের এই অর্থ গচ্চা যাচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রকল্প পরিচালক বিমানবন্দরের ৩৭ কোটি টাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণেও গুরুতর অনিয়ম করেছেন। সীমানা প্রাচীরটি দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। এছাড়া প্রকল্পটির পদে পদে রয়েছে মারাত্মক ত্রুটি।

বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুর্নীতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই দুটি সংস্থার দুর্নীতি নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও বিমানের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও বিমান ও বেবিচকের দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এ বছরেরই জুন মাসে শাহজালাল, শাহ আমানত, সিলেট ওসমানী ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৫ প্রকল্পের ফাইল তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ৯ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছিল।

এবারের দুর্নীতিতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালকই শুধু নন, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীও দায়ী। কারণ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে করা হয়ে থাকে।

আমরা তাই কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক ও বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী- উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলব। প্রকল্প পরিচালককে ইতিমধ্যেই অবশ্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কথা হচ্ছে, এতবড় দুর্নীতির শুধু বিভাগীয় শাস্তিই যথেষ্ট নয়। প্রকল্প পরিচালক ও বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীকে অবশ্যই আদালতের আওতায় আনতে হবে।

বেবিচকের দুর্নীতি: প্রকল্প পরিচালককে আইনের আওতায় আনতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আওতা বাড়ছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের এক বড় দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্পের অন্তত ১০০ কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে সরকারের।

এই দুর্নীতির হোতা হলেন প্রকল্পটির পরিচালক স্বয়ং। জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের টাকা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কোষাগারে জমা দেননি। নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দেয়ার কারণে তা বেড়ে গিয়ে ১০০ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের উদাসীনতা, গাফিলতি, অদক্ষতা, দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণে সরকারের এই অর্থ গচ্চা যাচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রকল্প পরিচালক বিমানবন্দরের ৩৭ কোটি টাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণেও গুরুতর অনিয়ম করেছেন। সীমানা প্রাচীরটি দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। এছাড়া প্রকল্পটির পদে পদে রয়েছে মারাত্মক ত্রুটি।

বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুর্নীতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই দুটি সংস্থার দুর্নীতি নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও বিমানের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও বিমান ও বেবিচকের দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এ বছরেরই জুন মাসে শাহজালাল, শাহ আমানত, সিলেট ওসমানী ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৫ প্রকল্পের ফাইল তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ৯ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছিল।

এবারের দুর্নীতিতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালকই শুধু নন, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীও দায়ী। কারণ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে করা হয়ে থাকে।

আমরা তাই কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক ও বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী- উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলব। প্রকল্প পরিচালককে ইতিমধ্যেই অবশ্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কথা হচ্ছে, এতবড় দুর্নীতির শুধু বিভাগীয় শাস্তিই যথেষ্ট নয়। প্রকল্প পরিচালক ও বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীকে অবশ্যই আদালতের আওতায় আনতে হবে।