দুর্নীতি রোধে ডিজিটালাইজেশন: চট্টগ্রাম এলএ অফিস উদাহরণ তৈরি করুক

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটালাইজেশন

দেশে ঘুষ, দুর্নীতি-অনিয়ম, নানাভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। আর অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছ ভূমিসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো। সাধারণ নামজারি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উঠানো- কোনোকিছুই ঘুষ ছাড়া হয় না।

এরই মধ্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণের পর তার ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মানুষের পড়তে হয় সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায়। ক্ষতিপূরণের টাকা আদৌ পাবে কিনা, পেলেও কত জায়গায় ধরনা দিতে হবে, ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মের শিকার হতে হবে, তার ইয়ত্তা নেই। তারপরও সময়মতো ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়া যায় কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগের অন্ত থাকে না সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ বা ল্যান্ড অ্যাকুইজিশনের শিকার হওয়া মানুষদের। আশার কথা, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ অফিসকে (এলএ) ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।

জানা যায়, নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ও কোটি টাকার কমিশনের চেকসহ চট্টগ্রাম এলএ অফিসের এক চেইনম্যান ও জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারী সম্প্রতি দুদকের হাতে ধরা পড়ার পর এলএ অফিসের অনিয়ম আবারও সামনে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলএ অফিসকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা তথা অনলাইনে ক্ষতিপূরণের আবেদন ও জমির কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে কখন শুনানি হবে- ইত্যাদি জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে অধিগ্রহণ হওয়া জমির মালিককে সমস্যা থাকলে একবার শুনানিতে যাওয়া ও একবার চেক আনতে যেতে হবে। সমস্যা না থাকলে কেবল চেক আনার দিন যেতে হবে। এমনকি আবেদন গ্রহণের পর কবে শুনানি ও কবে চেক বিতরণ তা এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। কারণ এর মাধ্যমে জমির মালিককে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ধরনা দেয়া ও ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া লাগবে না বলে আশা করা যায়।

বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রাম এলএ অফিসের এ দৃষ্টান্ত দেশের সব এলএ অফিস অনুসরণ করে মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান ও হয়রানি লাঘবের উদ্যোগ নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বস্তুত ভূমিসংক্রান্ত সব অফিস, এমনকি সরকারি সব অফিসকেই ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সবকিছু সহজ করা এবং মানুষকে ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার বিকল্প নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আছে ও কাজ করছে। তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের ডিজিটালাইজেশন এখনও হয়নি। সরকার ই-টেন্ডার ও সব সরকারি সেবা ঘরে বসে পাওয়ার পথ তৈরি করেছে; কিন্তু সেটা এখনও ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা মনে করি, ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে কোথায় কী সমস্যা, তা চিহ্নিত করে সবকিছু অনলাইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি অনেকটাই কমিয়ে আনা ও মানুষের হয়রানি কমানো সম্ভব।

বর্তমান যুগ অনলাইনের যুগ। পৃথিবীর যে কোনো স্থানে বসে যে কোনো দেশের প্রয়োজনীয় সেবা ও দরকারি তথ্য সম্পর্কে জানা যায়। এ অবস্থায় সরকারি তথ্য পাওয়া ও নিজের জমির ক্ষতিপূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তথ্য ঘরে বসে না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনকই বটে। চট্টগ্রাম এলএ অফিস এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে ও পথ দেখাচ্ছে। এখন অন্যদের পালা এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নেয়ার। ভূমিমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর সবকিজু ডিজিটাল করা ও সংশ্লিষ্ট সবার অর্থের হিসাব নেয়ার কথা বলেছেন। বিস্তৃত ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে সে পথে অগ্রসর হতে হবে। চট্টগ্রাম এলএ অফিস হোক এর প্রথম উদাহরণ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×