পরিবহন ধর্মঘট: জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়

  সম্পাদকীয় ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবহন ধর্মঘট: জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত বাস ধর্মঘটে জনজীবনে যখন দুর্ভোগ নেমে এসেছে, ঠিক তখনই সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

তারা নতুন আইন স্থগিত করে সংশোধনসহ নয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর ফলে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়ে বেড়ে যেতে পারে নিত্যপণ্যের দাম, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করে সরকার।

তবে নতুন আইনে মামলা ও শাস্তি দেয়ার কার্যক্রম মৌখিকভাবে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় হয়। এর পরপরই শুরু হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট।

এর মাধ্যমে শুধু যাত্রীদেরই জিম্মি করা হচ্ছে না, জিম্মি করা হচ্ছে সরকারকেও। কারণ নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, যত চাপই থাকুক, আইনটি বাস্তবায়ন করতেই হবে।

বস্তুত, জনগণও চায় আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন। এ আইনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইনের জনদাবি ছিল দীর্ঘদিনের। গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি করে পাস করা হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। এরপর আইনটির বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে আন্দোলনে নামে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এ কারণে এক বছরেরও বেশি সময় আটকে ছিল আইনটির বাস্তবায়ন।

অবশেষে আইনটি কার্যকর হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবির কারণে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। এ সংশয়ই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলা যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে দৃঢ় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

লক্ষ করার বিষয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও দেশের সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ বাস্তবতায় দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কঠোর ভূমিকার বিকল্প নেই। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক পরিবহন আইনটির যথাযথ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া এর সঙ্গে জনস্বার্থের প্রশ্নও জড়িত।

তাই আমরা আশা করব, সরকার জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আন্তরিক হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে এমন কোনো অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া সঙ্গত হবে না, যা চালকদের মানুষ হত্যার বৈধতা দেয়ার শামিল। বস্তুত, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুর্ঘটনা এমনিতেই কমে আসবে।

যথাযথ পদক্ষেপ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যেতে পারে। যেমন, গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র দিয়ে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল রোধ করা সম্ভব। ওভারটেকিং, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা- এসব ক্ষেত্রে আইন মানতে চালকদের বাধ্য করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

মোট কথা, যানবাহন চলাচলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করতে হবে কঠোরভাবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো কর্মসূচিই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের ঘোষিত-অঘোষিত সব ধরনের কর্মসূচি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে, এটাই কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×