ঋণের উচ্চ সুদহার: সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর না করার পেছনে রহস্য কী?

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো শিল্পঋণের সুদহার এখনও সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনেনি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো অনেক সুবিধা নেয়ার পরও শিল্পঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা সত্ত্বেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শিল্পঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য রয়েছে। আমরা মনে করি, এ রহস্য উদ্ঘাটন জরুরি।

শিল্পঋণের উচ্চ সুদহার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বস্তুত বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার পৃথিবীর কম দেশেই আছে। এত বেশি সুদ দিয়ে শিল্পকারখানা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। ঋণের সুদহার কমানোর কথা বলে বেশ কয়েক দফা সুবিধা নেয়ার পরও যেসব ব্যাংক সুদহার কমাতে গড়িমসি করছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

এমনিতেই গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতিসহ নানা কারণে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে উদ্যোক্তারা কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন।

সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ এর সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রশ্নটি জড়িত। ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা গেলে খেলাপি ঋণ কমে আসবে। ফলে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সহজ হবে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ জায়গাটিতে দৃষ্টি দেয়া। ব্যাংকগুলোর গড়িমসি অব্যাহত থাকলে তাদেরকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দিতে বাধ্য করতে হবে। সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

ব্যাংকগুলো অধিক হারে সুদ আরোপ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; পদে পদে সার্ভিস চার্জ আরোপের মাধ্যমে আগ্রাসী আচরণও অব্যাহত রেখেছে।

সব ধরনের হিসাব থেকে সার্ভিস চার্জ ও হরেক রকম কমিশন আদায়ের নামে মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিল্প খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। তাই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি।