আমাদের অনুভূতি কি ভোঁতা হয়ে গেছে?

  ফাত্তাহ তানভীর রানা ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের অনুভূতি কি ভোঁতা হয়ে গেছে?

‘বগুড়ার ব্যস্ত বাজারে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা’- ১৪ নভেম্বর যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংবাদটি আমার নজর কাড়ে।

বগুড়া সদর উপজেলার অদ্ধিরগোলা বাজারে সকাল ১০টায় আগে থেকে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা একজন ব্যবসায়ীকে সবার সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

সংবাদটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। প্রকাশ্য বাজারে দিনে-দুপুরে খুন! প্রিয় স্বদেশ কি নিপীড়ক ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে যাচ্ছে? জনসাধারণ চাইলে খুনিদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে পারত। এতে যিনি খুন হলেন, তিনি হয়তো বেঁচেও যেতে পারতেন।

কিন্তু তা আর হল কোথায়? এখন খুনিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতেও সবার ভেতরে দ্বিধা! মানুষ কি এতটাই ভাবলেশহীন হয়ে গেল? আমরা কোন সমাজে বাস করছি? কেন এত ভয়? কেউই কেন ভালো কাজের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না? সত্যি কথা বলতে চাইছেন না, সাহসী হচ্ছেন না? এ আচরণ সমাজবদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক আচরণ হতে পারে না।

আমরা যদি প্রতিবাদী হতাম তাহলে বরগুনার কলেজ ছাত্রী মিন্নির স্বামী এভাবে খুন হতেন না। আমরা যদি রুখে দাঁড়াতাম তাহলে খুনিরা খুন না করে পালানোর পথ খুঁজত। মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফ যদি খারাপ ছেলে হতো, তবে খুনিরা পুলিশের কাছে কেন গেল না? আদালতের শরণাপন্ন কেন হলো না?

এভাবে মানুষ মারার কোনো অধিকার কারও নেই। আমরা সচেতন-সাহসী হলে নাটোরের কলম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান ফুনু অথবা বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবু প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হতেন না। বেঁচে থাকার অধিকার সবারই রয়েছে।

আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার সব নাগরিকের জন্য সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের বন্ধুরা যদি নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতেন, তাহলে ফাহাদকে এভাবে অকালে মরতে হতো না, বরং অপরাধীরা হল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতো। আমরা এভাবে দেশের একজন রত্নকে হারাতাম না।

এত ভয় কেন? আসুন আমরা দলবেঁধে একসঙ্গে প্রতিবাদ করি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে; একসঙ্গে প্রতিরোধ করি দুর্নীতি, তৈরি করি সমাজ সচেতনতা। নয়তো এরপর হয়তো দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হবেন আপনি অথবা আমরা কেউ, কিংবা আমাদের কোনো ঘনিষ্ঠজন।

দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং অর্জনগুলো সমুন্নত রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন।

এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানগুলো দেশব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু দায়িত্ব কি শুধু সরকারের? নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা ব্যক্তিগত ও সমন্বিত উদ্যোগে যদি অন্যায়গুলো সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করি, তবে রাষ্ট্র ও সরকারের কাজ সহজ হবে।

আমাদের ভালো কাজের দায়িত্ব নিতে হবে, সৎ ও সাহসী হতে হবে; তবেই ভালো থাকবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। যে কাজ আমি একা পারব না, আমরা সবাই মিলে তা করতে পারি। সমাজের মুষ্টিমেয় দুষ্টলোকের জন্য অধিকাংশ ভালো মানুষ ভুগবেন কেন?

ফাত্তাহ তানভীর রানা : প্রাবন্ধিক

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×